• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

বইমেলার বিশেষ দিক-সর্বোচ্চ নিরাপত্তা

মো. কামাল হোসেন
|  ২৮ জানুয়ারি ২০১৭, ১২:২৮ | আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৭, ২১:০৮
এ বছরের একুশে বইমেলার স্টল বরাদ্দে গেলো ২৩ জানুয়ারি ডিজিটালি লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরইমধ্যে প্রকাশকদের স্টল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা স্টল সজ্জার কাজও শুরু করেছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এবারের মেলার সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা। এছাড়া স্টলের ওপরে ত্রিপলের বদলে থাকবে টিন।

মেলার নিরাপত্তায় ৫টি ওয়াচ টাওয়ার করবে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেড় হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে সাদা পোশাকে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে মেলা প্রাঙ্গণ ‘ভালোভাবে’পর্যবেক্ষণের জন্য বাড়ানো হচ্ছে আলোক সজ্জা।

মেলার নিরাপত্তায় দোয়েল চত্বর থেকে শুরু করে শামসুন্নাহার হল পর্যন্ত রাস্তায় থাকছে ২৫০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। বাংলা একাডেমিতে, শাহবাগ থানায় ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থাপিত তিনটি কন্ট্রোল রুম থেকে এসব ক্যামেরা মনিটর করার জন্য থাকছে ১৭টি ইউনিট। ডিএমপির কন্ট্রোল রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা মনিটর করা হবে মেলাপ্রাঙ্গণ।

গেলো বছর ঝড়-বৃষ্টির কারণে বেশকিছু স্টল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ক্ষতি এড়াতে এবার প্রতিটি স্টলের ওপরে ত্রিপলের বদলে দেয়া হচ্ছে টিনের ছাউনি।

শুক্রবার আরটিভি অনলাইনের সঙ্গে কথোপকথনে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ এসব কথা জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেলায় থাকছে ২২টি আর্চওয়ে। ভ্যালেন্টাইনস ডে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ বিশেষ দিনগুলোতে যোগ হবে দুটি স্পেশাল আর্চওয়ে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা কালীমন্দির লাগোয়া অংশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বাড়তি নজর রাখা হবে। মেলা উপলক্ষে আসা বিদেশি অতিথিরা চাইলে প্রত্যেককে একজন করে নিরাপত্তাকর্মী দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মূল দুই প্রবেশপথ দোয়েল চত্বর ও টিএসসি এলাকার দৃষ্টিনন্দন দু’টি ফটকে স্থাপিত ইলেকট্রনিক বোর্ডের মাধ্যমে উপস্থাপিত হবে মেলাসংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশিকা।

প্রতিটি প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মীদের বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে আইডি কার্ড দেওয়া হয়েছে, সেগুলো ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক। প্রকাশনা সংস্থা থেকে তারা প্রতিটি বিক্রয়কর্মীর তথ্য সংগ্রহ করবেন। বিক্রয়কর্মী পরিবর্তন হলে তা মেলা পরিচালনা কমিটিকে জানাতে হবে।

মেলার মূল মঞ্চটি নজরুল মঞ্চের ঠিক পাশে। একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন। সেখানে সাহিত্য সম্মেলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি নানা আয়োজন থাকছে। নজরুল মঞ্চে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটি তাই ঠিক মনমতো হয় না। তাই এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই হবে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশেও খাবারের দোকানের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। মুক্তমঞ্চের পাশে স্থাপিত টয়লেটগুলো ব্যবহার উপযোগী রাখতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

এবার স্টলগুলোকে অগ্নিবিমার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামাজনিত সৃষ্ট সমস্যাও বিমার আওতায় আনা হচ্ছে।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নেতারা মেলার সময় বাড়ানোর দাবি করলেও আগের সিদ্ধান্তেই মেলা চলবে। বেলা ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন বইমেলার দ্বার উন্মোচন উপলক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার আলোচনা শেষে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর সাংবাদিকদের বলেন, মেলায় আগত প্রত্যেককে নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে যেতে হবে, এমনকি আমাকেও এই তল্লাশির ভেতর দিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরো বলেন, মেলাকে সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ রাখতে যা যা করণীয়, তার সবই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মিলে করা হবে।

কে/ওয়াই

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়