• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

শিশুদেরও আনন্দভুবন বাণিজ্যমেলা

মিথুন চৌধুরী
|  ০৭ জানুয়ারি ২০১৭, ১৭:৩৭ | আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৭, ২৩:২৩
বাণিজ্যমেলায় এসেছে বাঘ মামা, মিকি মাউস, শান্তা ক্লোজ, ডোরেমন, কিউট হেন, এঙ্গেরি বার্ড। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্যাভেলিয়নের সামনে দাঁড়িয়ে শিশুদের সঙ্গে সেলফি, ফটো তোলায় ব্যস্ত। এদের অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্বও তৈরি হচ্ছে শিশুদের। আর যখন মন চাচ্ছে ফুল-রঙিন আলোর প্যাভেলিয়ন কিংবা পানির ফোয়ারার সামনে তাদের সঙ্গে শিশুরা তুলে নিচ্ছে ফটো। এ ফাঁকে মা-বাবারা কিনে নিচ্ছেন সংসারের দরকারি টুকিটাকি জিনিস।

শনিবার মেলায় ঘুরে দেখা যায়, বাণিজ্যমেলা ঘিরে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রচারণা ও ব্যবসায়িক চিন্তাভাবনা থাকলে অভিভাবকদের চিন্তাটি একটু আলাদা।কিছু ক্রেতা ঘর সাজানো কিংবা কম দামে পণ্য কেনার ভাবনা নিয়ে মেলায় এলেও অনেকেই শিশুদের আনন্দ দিতেই আসছেন। 

রাজধানীর কলাবাগান থেকে বাণিজ্যমেলায় ঘুরতে এসেছেন সুস্মিতা ও অরণ্য দম্পতি। তাদের ৫ বছরের ছেলে অথৈ। অরণ্য ব্যবসায়িক কাজে সারাদিন ব্যস্ততায় কাটালেও সুস্মিতা অথৈকে নিয়েই থাকে। রাজধানীতে ঘোরাফেরার জায়গা তেমনটা না থাকায় ছুটির দিনে রেস্টুরেন্ট আর মুভি দেখে তারা অবসর কাটায়। কিন্তু বাণিজ্যমেলা তাদের দিয়েছে অবসাদ দূরের সুযোগ। তেমনটা কেনাকাটা না করতে আসলেও বাচ্চাকে নিয়ে ঘোরাফেরা আর আনন্দ করতেই তারা এখানে আসে। বাণিজ্যমেলা চলাকালীন অরণ্য অতিরিক্ত ছুটি কাটায়। এমনটাই জানালো অরণ্য।

মগবাজার থেকে বাবা-মাকে নিয়ে বাণিজ্যমেলায় বেড়াতে এসেছে রুবাবা। রুবাবা ক্লাস টু’তে পড়ে। শুক্র আর শনি বাবার অফিস বন্ধ। তাই এ দু’দিন বাবার অপেক্ষায় থাকে। আজ শনিবার বাবার ছুটি তাই সকাল না হতে বাবা-মাকে নিয়ে বেড়াতে চলে এসেছে বাণিজ্যমেলায়। মেলায় ট্রেনে চড়ে রঙিন আলো দেখতে তার বেশ ভালো লাগে। মেলায় সে ৯ডি মুভিতে ডোরেমন, স্পাইডারম্যান, ডাইনোসরদের দেখবে। ডোরেমন নাকি তার বেশ ভালো বন্ধু। তাই মেলায় ডোরেমন আসায় সে বেশ খুশি।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়,  বাচ্চাদের জন্য গাড়ি, পুতুল, বন্দুক, খেলনা মোবাইল, ডোরেমন, ব্যবলট, বাঘ, ভাল্লুক, গিটার, পাখি, বন্দুক, পিয়ানো, ঘর, হাতিসহ রয়েছে নানা রকম খেলনা রয়েছে স্টলগুলোতে। বাহারি রঙে সাজানো হয়েছে এসব স্টল। ফলে সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছে শিশুরা।

শিশুদের কোলাহলে টইটম্বুর শিশুপার্ক। লাইনে দাঁড়িয়ে নাগরদোলায় ওঠার প্রতীক্ষায় অনেকে। যখনই নাগরদোলায় ওঠার সুযোগ পাচ্ছে তখনই দে দৌড়। আর যখন নাগরদোলা চক্কর দিচ্ছিল তখন এতে ওঠা সবাই একসঙ্গে চিৎকার করে আনন্দে মেতে ওঠে। আবার যখন থামানো হয় তখন কিছু একটা পাবার আনন্দে খুশিতে ভরে ওঠে তাদের মন। পাশেই রয়েছে চার বগির ছোট ট্রেন। টিকিট কেটে অভিভাবকরা শিশুদের ট্রেনে তুলে দিতেই তাদের চোখ-মুখ আনন্দে ভরে ওঠে। মেলায় আগত শিশুদের বিনোদনের জন্যই রয়েছে দুটো মিনি শিশুপার্ক। ১২ ভিন্ন রাইড নিয়ে এ শিশুপার্ক। ১শ’ টাকার টিকিটে ৫ মিনিটের ৯ডি মুভি দেখার সুযোগ থাকছে পার্কে। এছাড়া রয়েছে ৪০ টাকায় বিলাসী সাম্পানে উড়বার সুযোগ। আরো রয়েছে হানি সুইং, দোলনা, ডোরেমন, ট্রেনসহ বিভিন্ন রাইড। রেল রাইডসম্পূর্ণ ডিজিটাল এ শিশুপার্কের প্রতিটি রাইডই ইলেক্ট্রিক যন্ত্রচালিত। এক একটি রাইডে ৫ থেকে ৮ মিনিট উপভোগ করতে পারবে শিশুরা।  শিশুপার্কের পাশাপাশি মেলায় রয়েছে রাইড, নাইন-ডি ও সাকুরা পার্কসহ বেশ কয়েকটি বিনোদন কেন্দ্র।

এবারের মেলায় বাচ্চাদের জন্য এসেছে বেবি ডক্যুমেন্টক্যাশ।শিশুদের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে এটি।  বেবি ডক্যুমেন্ট ক্যাশ দেখতে অনেকটা ব্রিফকেসের মতো। এতে বাচ্চাদের লেখা, ছবি আকার সব উপকরণ রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে বাচ্চাদের দরকারি ১৫টি আইটেম। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কলম, পেন্সিল, রাবার, স্কেল, রঙ পেন্সিলসহ অনেক কিছু। আরএফএল এ বেবি ডক্যুমেন্ট ক্যাশটি নিয়ে এসেছে। এর দাম পড়বে ৩০৫ টাকা।

দোকানিদের পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গনে শিশুদের মন কাড়তে হকাররাও পিছিয়ে নেয়। হাতে হাতে নানা রকমের রঙিন বল আর বহু খেলনা। তবে এদের বেশি মন কাড়ছে আকাশের উড়ন্ত পাখির খেলনা। প্লাস্টিকের তৈরি এ পাখির সঙ্গে শিশুরাও যেনো আকাশে উড়ার স্বপ্ন দেখে। যারপরনাই তারা বাবা-মার কাছে বায়না ধরে পাখিটিকে সঙ্গী করে নেয়ার। আর বাবা-মাও হাসিমুখে ছেলেমেয়ের আবদার মেটাচ্ছে।

শিশুদের আকৃষ্ট করতে আবার স্টলের সামনে কেউ বাজাচ্ছেন বাঁশি, কেউবা স্টলের ভেতরে থ্রিডি কার্টুন আর নানান মজার গান বাঁজিয়ে মাতিয়ে তুলছে প্রাঙ্গণ। আর এতে শিশুদের স্বপ্নময় আনন্দ, নাচ আর চিৎকারে প্রাণ খুলে এক চিলতে হাসেন অভিভাবকরা।

মেলায় শিশুদের জন্য রয়েছে হরেক রকম “অদ্ভুত মাপজোক” নামে এক ধরনের যন্ত্রের সেট। এটি শিশুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে শিশুরা সহজেই রিমোর্ট কন্ট্রোল থেকে শুরু করে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ঠিক আছে কি-না তা সহজেই বুঝতে পারে। এছাড়া ফ্যানের মিটার ঠিক আছে কি-না তাও যথাযথ নিরাপত্তার সঙ্গে পরীক্ষা করতে পারবে তারা। বিজ্ঞানের প্রতি শিশুদের আকর্ষণ বাড়াতে এ উদ্যোগ বলে  মত সংশ্লিষ্টদের। বিজ্ঞানের রহস্যের প্রতি আকষর্ণ রয়েছে এমন বাচ্চাদের জন্য উপযোগী এসব সেটের দাম অভিভাবকদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই। অদ্ভুত মাপজোকের মূল্য ৭৯০ টাকা, রসায়ন রহস্য ৮৭১ টাকা, তড়িৎ তাণ্ডব ৮৫১ টাকা, চুম্বকের চলক ৯৭১ টাকা এবং আলোর ঝলক ৬৫২ টাকা।

ইকোপার্কের দিকেও শিশুদের আগ্রহ ছিল দেখার মতো। পার্কের ভেতরে লেক, জ্যান্ত খরগোশ, রাজহাঁস, কচ্ছপ, পাতিহাঁস তাদের বেশ নজর কাটছে। বারবার বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করে নিচ্ছে এগুলোর বাংলা আর ইংরেজি নাম।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া ২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা চলবে আসছে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। শুক্র আর শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড় শুরু হয়। যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। মেলা চলে প্রতিদিন সকাল ১০টা-রাত ৮টা পর্যন্ত। মেলায় প্রবেশের টিকিটমূল্য বড়দের জন্য ২০ টাকা এবং ছোটদের ১০ টাকা। এছাড়া অনলাইনেও মেলে টিকিট।

এমসি/ডিএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়