যে কারণে হারলেন সাখাওয়াত

প্রকাশ | ২২ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২:১৯ | আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২:২৬

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট, নারায়ণগঞ্জ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে পারলেন না বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান। ৭৭ হাজার ৯০২ ভোট কম পেয়ে তিনি হেরেছেন। নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ সাখাওয়াতকে বেশ কয়েকটি কারণে ভোট দেননি বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

ভোটররা মনে করেছেন, সাখাওয়াত বিএনপির প্রার্থী। তিনি বিজয়ী হলে উন্নয়ন বঞ্চিত হবে নারায়ণগঞ্জ। কারণ তখন সাখাওয়াতের পক্ষে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে কাজ বাগানো অসম্ভব। তিনি পাস করলে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হবেন কাউন্সিলররা। এলাকার উন্নয়নে বাধা পাবেন তারা।

এদিকে বিদেশি দাতাসংস্থাগুলোর সঙ্গে আইভীর ভালো সম্পর্ক। এর ফলে অনেক অনুদান ও প্রকল্প অনুমোদনও হয়েছে নারায়ণগঞ্জের জন্য। কিন্তু আইভী না থাকলে এসব প্রকল্প থমকে যেতে পারে বলেই ধারণা।

তাছাড়া আইভী পরাজিত হলে নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানদের একক কর্তৃত্ব চলে আসবে বলেই মনে করেছেন সাধারণ ভোটার।

জানা গেছে, নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ধানের শীষ স্লোগান দিলেও অনেকে আইভীকেই ভোট দিয়েছেন। কারণ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করেন, এটি নির্বাচনে মাধ্যমে সরকার বদল কিংবা ক্ষমতার পরিবর্তন হবে না। তাই দলের চেয়ে ব্যক্তির ইমেজ অনেক বেশি কাজ করেছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পর নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন পরিবহনে আগুনসহ নানা ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটে। এতে করে বিএনপির জনপ্রিয়তাও অনেকটা কমেছে।

বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও দুঃসময়ে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী গ্রুপ তৈরি করে বিভক্তি সৃষ্টি করেছিলেন সাখাওয়াতরা। তা প্রকাশও পেয়েছে নির্বাচনী প্রাচরণায়।

এদিকে বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেনকে আলোচিত ৭ খুন মামলার একজন আইনজীবী হিসেবেই জানে সবাই। নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে এটুকুই তার পরিচয়। সাখাওয়াত হোসেন নারায়ণগঞ্জ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তিনি এ জেলার বাসিন্দাও নন, অন্য জেলা থেকে কয়েক বছর আগে এসেছেন। ভাড়াটে প্রার্থী হিসেবে বিএনপির হয়ে ভোটে নেমেছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের কোথায় খাল আছে, কোথায় নদী আছে, তার কিছুই জানেন না বলেও প্রচার হয়। ভোটাররা এ বিষয় গুলোও বিবেচনা করছেন।

এসএস/ এস