• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

'বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মসূচিতে জাতীয় সঙ্গীত বাধ্যতামূলক করতে হবে'

সিয়াম সারোয়ার জামিল
|  ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ১১:১৯ | আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৭:৩৯
'জাতীয় সঙ্গীত এদেশের অমূল্য সম্পদ। এর মান মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। স্কুল-কলেজগুলোতে জাতীয় সঙ্গীত যেটুকু গাওয়া হয়, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে হয় না। এখানে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার প্রবণতা কমছে। এটা খুবই আতঙ্কের। দেশ-মা-মাটির প্রতি মমত্ব বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মসূচিতে, সব পর্যায়ের অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সঙ্গীত বাধ্যতামূলক করতে হবে।' বললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের  অধ্যাপক ড সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

শুক্রবার আরটিভি'র আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে শুদ্ধভাবে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের কর্মসূচিতে এসেছিলেন এ গবেষক। সেখানেই আরটিভি অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ইতিহাসের এই গবেষক বলেন, 'অনেক স্কুল কলেজে এখনও পতাকা উত্তোলন হয়না। জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়না। ক্লাসরুমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে জানানো হয়না। এতে করে ওইসব স্কুলে নতুন প্রজন্ম দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারছে না। ভিন্ন দেশের সংস্কৃতি তাদের গ্রাস করতে পারছে খুব সহজেই। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সর্বোপরি সরকার। জাতীয়তাবাদী চর্চা বাড়িয়ে দিলে দেশ এর সুফল পাবে।'  

ড আনোয়ার আরো বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একসঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া সম্ভব না হলেও দিনের প্রথম ক্লাসে সেটা শুরু করা যেতে পারে। এতে করে নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশ মা মাটির প্রতি মমত্ব বাড়বে।' তিনি বলেন, 'অনেক শিক্ষার্থীই পাওয়া যাবে, যারা পুরো জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পারেন না। অনেক অনুষ্ঠানেই কর্তৃপক্ষ জাতীয় সঙ্গীতের দু'চার লাইন বলেই শেষ করে দেয়। শুদ্ধতার প্রশ্ন উঠলে সেটা আরো বড় অংশ জুড়ে চিহ্নিত করা সম্ভব। জাতীয়তাবাদী চিন্তার বিচারে এসব কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।'

এই শিক্ষাবিদ বললেন, 'দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৫ বছর। এই সময়কালের অর্জন নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে, আমরা কতটুকু মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছি। আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন সময়ে এ দেশের উত্থাণ হয়েছে, পতনও হয়েছে। এসব মিলিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তবে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র মেনেই সব করতে হবে। মুক্তযুদ্ধের মূলমন্ত্র থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবেনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে সাংস্কৃতিক গণজাগরণ জরুরি। সরকারকে এ ব্যাপারে নজর দিতে হবে। ভূমিকা রাখতে হবে সব পেশার মানুষকে।'

এসজেড

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়