• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

নিজেদের শক্তি জানান দিলো বাংলাদেশ

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৮:১৩ | আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২:৩৮
৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় নতুন এক দেশ, বাংলাদেশ। দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। আজ থেকে ৪৫ বছর আগে নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এই দিনে বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। সেই থেকে নানা আয়োজনে পালন করা হয় এ দিনটিকে।

বিজয় দিবসের আয়োজনে অন্যতম আকর্ষণীয় সামরিক কুচকাওয়াজ। যেখানে ওঠে আসে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সক্ষমতা। প্রথমবারের মতো আনা ডুবোজাহাজ সাবমেরিন প্রদর্শন করা হয় এ আয়োজনেই।

বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নবম পদাতিক ডিভিশন জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করা হয়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সালাম নেন। এটি প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।


বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমানবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের কন্টিনজেন্ট, আধাসামরিক বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কুচকাওয়াজে অংশ নেয়।

একটি খোলা জিপে করে রাষ্ট্রপতি অভিবাদন নেয়ার পর প্যারেড কমান্ডার মেজর জেনারেল মেজর জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে অনুসরণ করে ময়দানের দক্ষিণ দিক থেকে দীপ্ত সঙ্গীতের তালে তালে এগিয়ে যায় সম্মিলিত পতাকাবাহী তিনটি দল, বীর মুক্তিযোদ্ধা কন্টিনজেন্ট, সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনীর স্ব স্ব কন্টিনজেন্টগুলো, বিজিবি, কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ পুলিশ, বিএনসিসি এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারী বিভাগ।


এরপর একে একে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, বিএনসিসি, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এ কুচকাওয়াজে অংশ নেন। এদের মধ্যে আরো আকর্ষণীয় ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দলের কুচকাওয়াজ।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সাভারের নবম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অধিনায়ক এবং নবম পদাতিক ডিভিশনের ৮১ কমান্ড ব্রিগেডের কমান্ডিং অফিসার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএম আনিসুজ্জামান উপ-অধিনায়ক হিসেবে কুচকাওয়াজ পরিচালনা করেন। দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর এবং আর্থসামাজিক অগ্রগতির চিত্রও কুচকাওয়াজে প্রদর্শন করা হয়।

এবারের কুচকাওয়াজের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়া যুদ্ধাস্ত্র সাবমেরিন। প্রথমবারের মতো কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে যুক্ত হয়েছে এই অস্ত্র। সমুদ্রসীমা পাহারা দিতে, প্রয়োজনে অনুপ্রবেশকারী শত্রুকে আক্রমণ করতে সাগরে ভাসা জাহাজের পাশাপাশি কাজ করবে চীন থেকে আনা এ সাবমেরিন। কুচকাওয়াজে তুলে ধরা হয় ট্যাংক, ৩৯ কিলোমিটার দূরে গোলা বর্ষণে সক্ষম কামানসহ নানা যুদ্ধাস্ত্রও।

প্রতিবারের মতো এবারও বিজয় দিবস প্যারেডের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আকাশ ভেদ করে উড়ে চলা বাংলাদেশ বিমান, সেনা, নৌ এবং পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকা ৪৪টি বিমান ও হেলিকপ্টার। ২০০ ফুট দীর্ঘ ও ১২০ ফুট প্রস্থের একটি লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা নিয়ে কুচকাওয়াজে দৃপ্ত ভঙ্গিতে অংশ নেয় কমান্ডোদের দল। ওয়ার ডগ ও সম্মিলিত অশ্বারোহী কন্টিনজেন্ট রাষ্ট্রপতিকে অভিবাদন জানায় বিশেষ ভঙ্গিমায়। প্রতিটি মন্ত্রণালয় আকর্ষণীয় সাজে গাড়ি সাজিয়ে তাদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে।

এস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়