• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

হাজারো কণ্ঠে শুদ্ধভাবে জাতীয় সঙ্গীত

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ১১:৩২ | আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩:৪৪
বিজয় দিবসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে হয়ে গেলো আরটিভির আয়োজনে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি। হাজারো কণ্ঠে শুদ্ধভাবে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের উদ্যোগ নেয় দেশের শীর্ষ এ টেলিভিশন চ্যানেলটি। এতে সাড়া দিয়েছে সবস্তরের মানুষ। তবে অনুষ্ঠানটি সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা ছড়িয়েছে ঢাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে।

জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পর্বটি সকাল ১১টায় হবার কথা থাকলেও মল চত্বরে জনসমাগম হতে থাকে সকাল ৮টার দিক থেকেই। সকাল থেকেই আসতে থাকেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান, আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংসদ বেগম নূরজাহান মুক্তা, সাংসদ সানজিদা খানম, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী সুজ্যেয় শ্যাম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ও ড. আবু মো দেলোয়ার হোসেন।

পাশাপাশি মল চত্বরে ভিড় করতে থাকেন ঢাবিতে বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা লোকজন। আসতে থাকেন ঢাবির বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরাও।

পরে বেলা ১১ টা ৫ মিনিটে জাতীয় সঙ্গীতের আয়োজনে সঙ্গীত পরিচালক সুজ্যেয় শ্যামের নেতৃত্বে অংশ নেন বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা), সুরসপ্তক, বাউল শফি মন্ডলসহ খ্যাতিমান সঙ্গীত শিল্পীরা।

শুদ্ধভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার এ আয়োজনের জন্য আরটিভিকে ধন্যবাদ জানিয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেবে। তিনি এজন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

ড হাছান মাহমুদ বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলছে। এ মুহুর্তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পারে দেশকে সঠিক পথে রাখতে। এজন্য দেশের মানুষের মাঝে সাংস্কৃতিক গণজাগরণ ছড়িয়ে দিতে হবে।' পাশাপাশি রাজাকারসহ সব প্রকার দেশবিরোধী শক্তিকেও প্রতিহত করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেন, 'দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৫ বছর। আমাদের মাঝে এখনো মানবিক চেতনা জাগ্রত হয়নি। ধর্মকে এখনো রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা বন্ধ করতে হবে। গণকবর, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সঠিকভাবে চিহ্ণিত করতে হবে। যাতে আসছে প্রজন্ম বুঝতে পারে, কতোটা কঠিন ছিল আমাদের স্বাধীনতা অর্জন। কতোটা ত্যাগ ছিল এদেশের মানুষের।' 

জাতীয় সঙ্গীত সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড আবু মো দেলোয়ার হোসেন বলেন, 'অধিকাংশ সময় শুদ্ধভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয় না এখন। কোথাও সিডি বাজানো হয়, কোথাও দু’চার লাইন গেয়েই শেষ করে দেয়া হয়। তাল লয় ঠিক থাকে না। জাতীয় সঙ্গীত আমাদের সম্পদ। একে সঠিক ভাবেই গাইতে হবে।'

সাংস্কৃতিক আয়োজনে দলীয় পরিবেশনা করেন বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা)। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সঙ্গীত বিভাগ, ফেরদৌস আরা ও তার সংগঠন, ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী, গীতাঞ্জলী শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশনাও দর্শকদের মন কাড়ে।

মুক্তিযুদ্ধ ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, রথীন্দ্রনাথ রায়, মমতাজ, দিঠি আনোয়ার, দেবলিনা সূর, সমরজিৎ রায়, মৌটুসী, প্রিয়াংকা গোপ, বিন্দুকনা, চম্পা বণিক, রাজিব, পুতুল, অর্পিতা, অলক সেন, আনুশা, পীযুষ ইসলাম, আবু বকর, কর্ণিয়া, তাশাউফ।

এছাড়া গগন হরকরার গান নিয়ে আসেন বাউল শিল্পী শফি মন্ডল। দলীয় নৃত্যে পরিবেশন করেন কবিরুল ইসলাম রতন, ইভান শাহরিয়ার সোহাগ। আবৃত্তি করেন কবি আসাদ চৌধুরীসহ আরো অনেকে।

'অনেক কিছুই শেখার আছে'

মহাখালী থেকে শাহাদাৎ হোসেন এসেছিলেন বিজয়ের গানের এ উৎসবে। আরটিভি অনলাইনকে বলেন, 'এখানকার অনেককেই প্রথমে বলতে শুনছিলাম শুদ্ধভাবে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের আবার কি আছে? এ একটু আগেই একজন বলছিল, এ ধরনের অনুষ্ঠান দেশের সব জায়গায় হওয়া দরকার। এখানে এসে বুঝতে পারলাম এতোদিন ধরে আমি আমার ৮ বছরের ছেলেকে যে জাতীয় সঙ্গীত শেখাচ্ছি তা আসলেই শুদ্ধ নয়।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, 'ব্যতিক্রমী একটি উদ্যোগ হলেও এ ধরনের অনুষ্ঠান থেকে আমাদের অনেক কিছুই শেখার আছে। জাতীয় সঙ্গীত শুদ্ধভাবে পরিবেশন করতে না পারাটা আমাদের লজ্জার। আরটিভি আমাদেরকে ব্যাপারটি মনে করিয়ে দিলো।'



কে/এসজে/এসজেড/ডিএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়