• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা হয় ১২ ডিসেম্বর

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০৮:৩৬ | আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৮:৩১
টাঙ্গাইলে সারারাত যুদ্ধ শেষে ১২ ডিসেম্বর ভোরে অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায় হানাদারবাহিনী। ঢাকায় সামরিক অবস্থানের ওপর বেপরোয়া বিমান হামলাসহ শহরজুড়ে কারফিউ অব্যাহত থাকে। ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে নিরীহ বাঙালির ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। অন্যদিকে এ রাতে রাও ফরমান আলী এদেশীয় দোসরদের নিয়ে গোপন বৈঠকে বসেন এবং শেষ আক্রমণ হিসেবে বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা তৈরি করেন। একাত্তরের এ দিনটি সম্পর্কে জানাচ্ছেন নুসরাত জাহান সিনথী।

১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর, চারিদিকে জয়ের আগমনী বার্তা। যৌথবাহিনীর আক্রমণে হানাদারমুক্ত হতে থাকে একের পর এক অঞ্চল। স্বগৌরবে উড়তে থাকে লাল-সবুজের পতাকা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছিল বিজয়কে বরণ করার।

মধুপুরে সারারাত যুদ্ধ শেষে একাত্তরের এদিন পাকিস্তান বাহিনী অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়। পরাজয় নিশ্চিত জেনেও নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী নূরুল আমিন অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ভারতকে পাকিস্তান ছেড়ে যেতে বলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ মাতৃভূমি রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।’

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এমন কোনো শক্তি নেই যে, পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে পারে।’

এদিন, মার্কিন সপ্তম নৌবহর বঙ্গোপসাগর থেকে ২৪ ঘণ্টার দূরত্বে এসে অবস্থান নেয়। এসময় একদিকে পাকিস্তান সমর সাহায্য পাওয়ার আশায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল, অপরদিকে যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

পরাজয়ের সন্নিকটে এসে নিজেদের নৃশংসতার আরো একটি ঘৃণ্য প্রমাণ দেয় বর্বর পাকবাহিনী। বাঙালির মেরুদণ্ড ভাঙতে এ রাতেই প্রাদেশিক সরকারের বেসামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী গোপন শলা পরামর্শ করতে তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর-আলশামস সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানেই বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা চূড়ান্ত করা হয়।

এস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়