• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

বরিশাল মুক্ত হয় এই দিনে

আলী জসিম, বরিশাল
|  ০৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ০৯:১৭ | আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৭:৩০
১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিবাহিনীর হাতে  পর্যুদস্ত হয়ে পাকিস্তানি আর্মি বরিশাল ত্যাগ করলে বরিশাল মুক্ত হয়। বাধ ভাঙা জোয়ারের ন্যায় সাধারণ মানুষ জয়বাংলা ধ্বনিতে রাস্তায় নেমে পড়ে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ, ঢাকায় পাকিস্তানি আর্মি নিরীহ মানুষ হত্যা করার সংবাদে বরিশালে প্রতিবাদী  মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধারা পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগার ভেঙে অস্ত্র ও গোলা বারুদ নিয়ে আসে। বরিশালের মুক্তিযোদ্ধারা ২৬ মার্চ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গড়ে তোলে দক্ষিনাঞ্চলীয় স্বাধীনবাংলা সরকারের প্রথম সচিবালয়। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত একমাস এই সচিবালয়ের অধীনে বরিশালে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং দেয়া হয়ে ছিল।

ঢাকায় ক্র্যাকডাউনের এক মাস পড়ে ২৫ এপ্রিল বিভাগীয়  শহর বরিশালে পাকিস্তানি আর্মি প্রবেশ করে। পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী একযোগে-আকাশ, সড়ক ও নৌপথে আক্রমন চালিয়ে বরিশালে প্রবেশ করে। ঢাকা থেকে বরিশালে সড়ক পথে আসার সময়ে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদীর কটকস্থল সাউদের খাল ব্রীজের নিকটে মুক্তিযোদ্ধা কমন্ডার আ,ন,ম আব্দুল হাকিমের নেতৃত্বে পাকিস্তানী সেনাদের বাধা দেয় মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন বক্স, মোক্তার হোসেন (সেনা সদস্য),  সৈয়দ আবুল হাসেম (পুলিশ সদস্য) ও পরিমল মন্ডলসহ ২২ জন শহীদ হন। বীরের ন্যায় যুদ্ধ করে ৮ পাকিস্তানী সেনাকে হত্যা এবং তাদের ২টি গাড়ী ধ্বংস করতে সক্ষম হন মুক্তিযোদ্ধারা। এটিই ছিল দক্ষিনাঞ্চলে পাকিস্তানী সেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম সন্মুখ যুদ্ধ। পরে হানাদার বাহিনী গুলি করে নির্বিচারে নিরীহ মানুষকে হত্যাকরে ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়ে বরিশালে প্রবেশ করে ।

নদী পথে বরিশালে প্রবেশের সময় নগরীর  ৫ কিলোমিটার দূরে জুনাহার নদীতে মুক্তিযোদ্ধারা দু’টি জাহাজ দিয়ে বাধা তাদের। তাদের বোমারু বিমানের হামলায় জাহাজ দু’টি ডুবে যায়। হানাদারদের নারকীয় হামলায় চরবাড়ীয়া,তালতলী,চরমোনই সহ প্রায় ৬ টি গ্রামের ৪৭ জনকে হত্যা,বাড়ি- ঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নারীনির্যাতন চালিয়ে নগরীতে প্রবেশ করে। নগরীর পানিউন্নয়ন বোর্ড এলাকায় হানাদারবহিনী মিনি ক্যান্টনমেন্ট স্থাপন করে। এখান থেকে তারা  বিভিন্ন এলাকায় অপারেশন  চালিয়ে-গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে হত্যা করে হাজার হাজার মানুষকে। ২৫ এপ্রিল থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা নিরীহ মানুষদের ধরে এনে মিনি ক্যান্টনমেন্টের পাশের খালের পাড়ে,ব্রীজের উপর সাড়িবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করতো। ওয়াপদা ক্যান্টমেন্টে আটককৃত নর-নারীদের ওপর চালানো হতো নিষ্ঠুর নির্যাতন।

এদিকে, মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক হামলা চালিয়ে পাকিস্তানী হানাদারদের পর্যুদস্ত করতে থাকে। মুক্তিবাহিনীর ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে হানাদার বাহিনী টিকতেনা পেরে ৮ডিসেম্বর  নগরীতে কার্ফু দিয়ে,স্টীমার  যোগে  বরিশাল ত্যাগ করতে শুরু করে। এ ছাড়াও সে সময়ে চিহ্নিত স্বাধীনতা বিরোধী ও শান্তি কমিটির সদস্যরা বরিশাল ত্যাগ করে। খবরটি শুনে ভারতীয় বাহিনী চাঁদপুরের নিকট পাকিস্তানী আর্মির স্টিমার ও লঞ্চের ওপর ব্যাপক বোমা বর্ষণ করলে সকল আর্মি ও স্বাধীনতা বিরোধীদের সলিল সমাধি ঘটে।

এসময় সুলতান মাস্টারের বাহিনী প্রথমে বরিশাল নগরীতে প্রবেশ করে কোতয়ালী থানার দায়িত্ব নেয়। একে একে মুক্তিযোদ্ধারা দলে দলে নগরীতে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থাপনায় অবস্থান নেয়। জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে ঘর থেকে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। চারিদিকে উড়তে থাকে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়