• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

বঙ্গবন্ধুর বিচার সামরিক রীতিতে করার নির্দেশ ইয়াহিয়ার

আতিকা রহমান
|  ০৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ১২:১০ | আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯:৩৪
একাত্তরের ৫ ডিসেম্বর বিজয়ের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে উত্তরাঞ্চল। ইয়াহিয়া আকস্মিকভাবে, নুরুল আমিনকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও জুলফিকার আলী ভুট্টোকে উপ-প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন। নির্দেশ দেন বঙ্গবন্ধুর বিচারের রায় সামরিক রীতিতে করার।  বঙ্গবন্ধু তখনো পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। সাজানো রায় কার্যকর করতে তড়িঘড়ি শুরু করে পাকিস্তানী শাসকরা। দ্রুত রায়ের জন্য নির্দেশ দেয়া হয় বিচারকদের।

একাত্তরের এদিনেও বিভিন্ন অঞ্চলে চলে মুক্তিবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান। আখাউড়ায় আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তান বাহিনী। গেরিলা আক্রমণে ঢাকার আশপাশে বেশ কয়েকটি এলাকা দখলে চলে আসে মুক্তিযোদ্ধাদের।

সিলেটের অধিকাংশ অঞ্চল দখলসহ, রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও যশোর থেকে হানাদার বাহিনীকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এদিন ১২ ঘণ্টায় ২৩২ বার তেজগাঁও এবং কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে বোমা ফেলা হয়। বাংলাদেশে বিধ্বস্ত করা হয় পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অধিকাংশ বিমান। 

এদিকে, যুদ্ধ পটভূমি পরিবর্তন করতে ইয়াহিয়া ২টি কৌশলের আশ্রয় নেয়। এক, নুরুল আমিনকে প্রধানমন্ত্রী ও জুলফিকার আলী ভুট্টোকে উপ-প্রধানমন্ত্রী বানানো। দুই, বিচারককে তাগিদ দেন বঙ্গবন্ধুর বিচারের রায় দ্রুত লেখার।

৫ ডিসেম্বর চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই পাক বাহিনীকে সর্বাত্মক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মুক্তিযোদ্ধারা।  এ দিন বঙ্গোপসাগরে বাঙালি নৌবাহিনীর যৌথ কমান্ডো আক্রমণে, ধ্বংস হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ধারে নেয়া পাকিস্তানী সাবমেরিন ‘গাজী’।

অন্যদিকে, এদিন পূর্ব পাকিস্তানের পুতুল শাসক গভর্নর ডাক্তার মালিক দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন- দেশ আক্রান্ত। ভারতীয়দের সহযোগিতায় কিছু বিশ্বাসঘাতক দেশ আক্রমণ করেছে। এ দেশের সেনাবাহিনী তাদের প্রতিরোধ করছে। তাদের সাহায্য করার জন্য প্রতিরক্ষা তহবিল করা হয়েছে। তবে তার এ আহ্বানে সারা দেয়নি কেউ।

জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়