• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

ছিনতাই আতঙ্কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

শাহিনুর রহমান শাহিন
|  ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:১৫ | আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:৩০

মীর মশাররফ হোসেন হলের গেট পার হওয়ার সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই পেছন থেকে মুখে কাপড় বাঁধা তিন ব্যক্তি চাকু দেখিয়ে আমার কাছ থেকে লাভা ব্র্যান্ডের একটি মোবাইল ফোন এবং ৮০০ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। কথাগুলো বলছিলেন রংপুরের মিঠাপুকুরের আশিক রহমান।

তিনি এই বছরের একজন ভর্তি পরীক্ষার্থী। ভর্তি কোচিং করতে ঢাকায় এসেছেন। থাকেন সিএন্ডবি এলাকায় খালাতো ভাইয়ের বাসায়। গত ৫ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফরম পূরণের জন্য সিঅ্যান্ডবি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের (ডেইরি গেট) দিকে হেঁটে আসার সময় এই ঘটনার শিকার হন।

শুধু আশিক রহমান নয়। গত ৬ মাস ধরে প্রায় অর্ধশতাধিক বহিরাগত, পথচারী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিনতাইয়ের কবলে পড়েছেন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মীর মশাররফ হোসেন হলের এই গেটের আশেপাশে।

একই জায়গায় পথচারী, বহিরাগত ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ছিনতাইয়ের শিকার হলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিনতাইকারী চক্রটি। ফলে পথচারীদের মতো প্রতিনিয়ত ছিনতাই আতঙ্কে আছেন ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় ছিনতাইকারীদের দৌড়াত্ম্য। সুযোগ বুঝেই ভয়ভীতি দেখিয়ে কেড়ে নেয় সবকিছু।

গত আগস্ট মাসে একই জায়গায় ছিনতাইয়ের সময়ে এক পথচারী ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসনের সামনেই হচ্ছে এসব ছিনতাইয়ের ঘটনা। অথচ প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে নেই কোনও তৎপরতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নেশাগ্রস্ত কয়েকজন শিক্ষার্থীর প্রত্যক্ষ মদদে ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। তাদের আশ্রয়ে ছিনতাইয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে চলছে পাশের সিঅ্যান্ডবি, কলমা, ডেইরি ফার্ম এবং সাভার এলাকার কয়েকজন বখাটে যুবক।
-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : কমছে ইলিশের দাম, বাড়ছে সবজির
-------------------------------------------------------

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রশাসন ও পুলিশকে একাধিকবার জানানো হলেও বিষয়টি নিয়ে কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাই এনিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, দিনদিন ভয়ানক হয়ে উঠছে ছিনতাইকারী চক্র। সন্ধ্যা নামলেই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলতে ভয় পাই। অনেক সময় ক্যাম্পাসেও ঘটে ছিনতাইয়ের ঘটনা। এভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতে থাকলে জীবনের নিরাপত্তা কোথায় পাব।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিউল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে সাভার নিউমার্কেট এলাকা থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে মীর মশাররফ হোসেন হলের গেটের সামনে নামতেই মুখোশধারী তিনজন আক্রমণ করে আমার সবকিছু কেড়ে নেয়। প্রশাসন বা পুলিশ কেউ আমাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে তৎপর না হলে তো আমাদের অন্য কোনও উপায় নেই।

সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম বলেন, দুয়েক দিন পরপর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে একই জায়গায়। কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না। পুলিশের সুষ্ঠু নজরদারির অভাবে এমনটি ঘটছে বারবার। পুলিশ বা প্রশাসনের চেয়েও কি অপরাধীচক্র শক্তিশালী?

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাভারের সিঅ্যান্ডবি এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (ডেইরি গেট) পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের অংশটি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে। ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেই পুলিশকে খবর দেয়া হয়। কিন্তু পুলিশের কঠোর নজরদারি না থাকায় দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ছিনতাই।

এই বিষয়ে আশুলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনা বারবার একই জায়গায় ঘটছে। বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। ইতোমধ্যে বিষয়টিকে যথার্থ গুরুত্ব দিয়ে সাভার, ধামরাই ও আশুলিয়া থানার একটি গঠনমূলক বৈঠক হয়েছে। ছিনতাই যাতে আর না ঘটে সেই বিষয়ে পুলিশ তৎপর আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে নিরাপত্তাকর্মীরা সবসময় ক্যাম্পাসে টহল দেয়। কোনও ধরনের অপ্রীতিকর বা ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটলেই আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করি। যদিও জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে কিন্তু ক্যাম্পাসের সামনে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমরা তৎপর আছি।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো. জুলকার নাইন বলেন, মহাসড়কে প্রায়ই এই ঘটনা ঘটার ফলে এটি ছিনতাইপ্রবণ স্থানে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা সজাগ আছি। শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে ইতোমধ্যে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি, অতিদ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

আরও পড়ুন   :

কে/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়