• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

জেব্রা ক্রসিং মানছেন না যান চালকরা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:০৬ | আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৩৫
পথচারী রাস্তা পার হবার জন্য রাস্তার মাঝে আড়াআড়ি যে দাগ দেয়া হয় তাকেই জেব্রা ক্রসিং বলে। সাধারণত স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল বা যেখানে পাবলিক সমাগম বেশি থাকে, সেখানে মানুষ যাতে সহজে রাস্তা পারাপার হতে পারে সেজন্যই জেব্রা ক্রসিং দেয়া হয়। নিয়ম হলো জেব্রা ক্রসিং এর সামনে গাড়ি একটা নির্দিষ্ট গতি সীমার নিচে নিয়ে আসবে যাতে পথচারী সহজেই রাস্তা পার হতে পারে। ঢাকা শহরের বেশির ভাগ জেব্রা ক্রসিং তিন রাস্তা, চৌ রাস্তা অথবা রাস্তার মৌড়ে দেয়া হয়েছে চলাচল সুগম করতে। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ যানবাহন চালক কোনও তোয়াক্কাই করছে না জেব্রা ক্রসিং।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাংলামটর, ফার্মগেট, শাহবাগ মোড়সহ বিভিন্নস্থান ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

দেখা যায়, রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ট্রাফিক পুলিশরা জেব্রা ক্রসিং এর আগে গাড়ি থামতে সিগন্যাল দিলেও যানবাহনগুলো জেব্রা ক্রসিং ক্রস করে। আবার কোনও কোনও সময় বাস ও প্রাইভেটকারগুলো ক্রসিং পার না হলেও মোটরসাইকেলগুলো ক্রসিংয়ের উপর ঠাই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ফলে ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের পারাপার হতে দেখা যায়।

গেল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছিলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর থেকে পুলিশ সড়কে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এবার আমরা মাসব্যাপী অভিযান চালাব। পুলিশের এ উদ্যোগে সহায়তা করবে রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। প্রতি শিফটে ৩২২ জন স্কাউট সদস্য গাড়িগুলোকে লাইনে দাঁড় করানো, যত্রতত্র পার্কিং না করা, জেব্রা ক্রসিং ও ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে যাত্রীদের রাস্তা পারাপারে সহায়তা করবেন। ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগগুলোর বিষয়ে কমিশনার বলেন, ঢাকায় ১২১টি বাস স্টপেজের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্টপেজ ছাড়া কোথাও বাস থামানো যাবে না।

কিন্তু কমিশনারের এ আদেশ যানবাহন মালিকরা পুলিশের সামনে মানলেও অনেক স্থানে মানছে না। আবার অনেকে অমান্য করে জরিমানার শিকারও হচ্ছেন।

বাংলামটর মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বরত একজন বলেন, নিয়ম অমান্য করতেই তো নাগরিকরা অভ্যস্ত। তাই প্রথম দিন বেগ পোহাতে হচ্ছে। সিগন্যাল দেয়ার পরও অনেকে জেব্রা ক্রসিং ক্রস করছে, আবার অনেকে মানছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলগুলো বেশি সমস্যা করছে। তারা বেশিরভাগ সময় জেব্রা ক্রসিং এর ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে ক্ষমা চাচ্ছে। আবার অনেক সময় সার্জেন্ট যদি একটু দূরে থাকে তাহলে গাড়ি টান দিচ্ছে। আমাদের হাতে ওয়ারলেস না থাকার কারণে নাম্বার দেখার পরও আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি না।

বাংলামটরের জেব্রা ক্রসিং দিয়ে পার হচ্ছিলেন ৫০ ঊর্ধ্ব সাহানা খাতুন। তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমার হাঁটুতে সমস্যা। তাই ফুটওভার ব্রিজ পার হতে পারিনা। জেব্রা ক্রসিংটাই ব্যবহার করি। কিন্তু জেব্রা ক্রসিংএর ওপর গাড়ি থাকে। তার ওপর এলোমেলো হয়ে থাকে। অনেকটা আতঙ্কে রাস্তা পার হতে হয়। কখন না কি ঘটে যায়।

মিরপুর-সদরঘাট রুটের বিহঙ্গ বাসের চালক খাইরুল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে মোটরসাইকেলের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তারা কোনও সিগন্যাল মানতে চাই না। তাদের জন্য অনেক সময় দুর্ঘটনা হয়ে থাকে। মোটরসাইকের যাত্রীর প্রাণ রক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময় অন্য বাসের সাথে ঘা ঘেষে চলতে হয়। তারা আইন অমান্য করার কারণে আমরাও বিরক্ত। জেব্রা ক্রসিং সিগন্যাল মানা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এর ট্রাফিক বিভাগের সবশেষ তথ্য মতে জানা যায়, সবশেষ অভিযানে ট্রাফিক বিভাগ ৪০ লাখ ৫৬ হাজার ৩২৫ টাকা জরিমানা আদায়সহ ৫২১১টি মামলা করেছে। এ সময় রেকার করা হয়েছে ৯০৭টি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে ডিএমপি ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার লিটন কুমার সাহা বলেন, শুধু ট্রাফিক পুলিশের উপর দায় দিলে চলবে না, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ সড়কের জন্য বিআরটিএ, সিটি করপোরেশনসহ এগিয়ে আসতে হবে। জনসাধারণকে সচেতন হতে হবে এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। তাহলে পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব।

আরও পড়ুন :

এমসি/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়