সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা: টিআইবি (ভিডিও)

প্রকাশ | ৩০ আগস্ট ২০১৮, ১৩:০৯ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০১৮, ১৮:২০

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

দেশের বিদ্যমান সেবা খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। এর পরে আছে পাসপোর্ট অফিস ও বিআরটিএ।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) পরিচালিত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আজ বৃহস্পতিবার  ধানমন্ডির টিআইবি কার্যালয়ে খানা জরিপের তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দেশজুড়ে একটি খানা জরিপ পরিচালনা করে টিআইবি। এতে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের ভিত্তিতে জনগণের মতামত জানতে চাওয়া হয়।

“যেখানে ২০১৭ সালে সার্বিকভাবে ৬৬.৫ শতাংশ মানুষ সেবাখাতগুলোতে দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭২.৫ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, পাসপোর্ট অফিস ৬৭.৩ শতাংশ এবং বিআরটিএ-তে ৬৫.৪ শতাংশ দুর্নীতি হয়েছে।”

টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে খানা প্রতি ৫ হাজার ৯৩০ টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে সাধারণ মানুষ এবং সর্বোচ্চ ঘুষ আদায়ের তিনটি খাত হলো গ্যাস (৩৩ হাজার ৮শ ৫ টাকা), বিচারিক (১৬ হাজার ৩শ ১৪ টাকা) এবং বীমা খাত (১৪ হাজার ৮শ ৮৬ টাকা)।

আর ২০১৭ সালে জাতীয়ভাবে প্রাক্কলিত মোট ঘুষের পরিমাণ ১০ হাজার ৬শ ৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা; যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের(সংশোধিত) ৩.৪ শতাংশ এবং বাংলাদেশের জিডিপির ০.৫ শতাংশ। মাথাপিছু প্রাক্কলিত ঘুষের পরিমাণ ২০১৭ সালে ৬৫৮ টাকা; যা ২০১৫ সালে ছিল ৫৩৩ টাকা।

টিআইবি আরও বলছে, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে কোনও কোনও খাতে দুর্নীতি উল্লেখ্যযোগ্য হারে বেড়েছে, (যেমন- গ্যাস, কৃষি, বিআরটিএ, বিচারিক সেবা) এবং কোনও কোনও খাতে দুর্নীতি কমেছে যেমন শিক্ষা, পাসপোর্ট ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান।

জরিপে দেখানো হয়েছে, ঘুষ প্রদানকারী খানার ৮৯ শতাংশ ঘুষ দেয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ‘ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া যায় না’ অর্থাৎ ঘুষ আদায়কে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হয়েছে; যা ২০১৫ সালে ছিল ৭০.৯ শতাংশ।

আরও পড়ুন :