নেপালের তদন্ত প্রতিবেদন

মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, বেপরোয়া ছিলেন ইউএস-বাংলার পাইলট

প্রকাশ | ২৭ আগস্ট ২০১৮, ১৩:২৯ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৪৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন

নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস বাংলার বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও বেপরোয়া ছিলেন। একইসঙ্গে অবতরণের সময় তিনি কন্ট্রোল টাওয়ারকে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছিলেন। ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুর এক ঘণ্টার যাত্রায় ককপিটে বসে অনবরত ধূমপান করছিলেন।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নেপাল সরকারের গঠিত তদন্ত কমিশনের একটি   প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

চলতি বছরের গত ১২ মার্চ এ বিমান দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পাঁচ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো।

ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নেপালের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইলট আবিদ সুলতান বিমান অবতরণের সময় প্রচণ্ড ব্যক্তিগত মানসিক চাপ ও উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন এবং তার ক্রমাগত ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন :  ঘণ্টাখানেক বিলম্বে ঢাকায় হাজিদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট
-------------------------------------------------------

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অবতরণের মাত্র ছয় মিনিট আগেও আবিদ সুলতান জানিয়েছিলেন ‘গিয়ার ডাউন ও লক’ আছে। তবে সহকারী পাইলট পৃথুলা রশিদ চূড়ান্ত অবতরণের সময় জানিয়েছিলেন গিয়ার ডাউন ছিল না। এর প্রায় মিনিট খানেক পর পাইলট গিয়ার ডাউন করেন।

তদন্ত দল জানিয়েছে, ‘ককপিটের রেকর্ড করা অডিও শুনে ও বিশ্লেষণ করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, তিনি গুরুতর মানসিক চাপে ছিলেন। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় তিনি অবসন্ন ও ক্লান্ত ছিলেন। তার সাড়ে পাঁচ হাজার কিলোমিটার বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল। কিন্তু তিনি যে নিয়মিত একজন ধূমপায়ী ছিলেন সেটা কখনোই বিমান কর্তৃপক্ষকে জানাননি।

বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে নেপালে বিমান নিয়ে পাঠানো হয় বলে সেসময় ইউএস বাংলা বিমানের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। তবে সেসময় অভিযোগ অস্বীকার করে বেসরকারি এ প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ।

গত ১২ মার্চ সোমবার ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন কেবিন ক্রু-সহ ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে। উড়োজাহাজটি নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়ে ৫১ জন নিহত হন৷ তাদের মধ্যে চার ক্রুসহ ২৬ জন ছিলেন বাংলাদেশি৷ এ ঘটনায় ২০ জন প্রাণে বেঁচে ফেরেন। ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করে।

সূত্র: দৈনিক কাঠমান্ডু পোস্ট

আরও পড়ুন :

এপি/এসএস