• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

আজ পবিত্র ঈদ-উল-আজহা, ঘরে ঘরে খুশির দিন

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২১ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৪৭ | আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৩৭
আজ মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-আজহা। শান্তি, সৌহার্দ্য ও আনন্দের বার্তাবহ উৎসব এই ঈদ। সব ভেদাভেদ ভুলে আজ ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে মিলিত হওয়ার দিন। সবাইকে ঈদ মোবারক।

সোমবার পবিত্র হজ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মহান আল্লাহর সন্তুষ্ট লাভের উদ্দেশ্যে আজ পশু কুরবানি করবেন। আজ সবার ঘরে ঘরে খুশির দিন।

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইলকে (আ.) কুরবানি করতে উদ্যত হন। কিন্তু আল্লাহপাকের অশেষ মেহেরবানিতে ইসমাইল (আ.) এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কুরবানি হয়ে যায়। হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে সারা বিশ্বের মুসলিমরা জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের প্রত্যাশায় পশু কুরবানি করে থাকেন। পশু কুরবানির কারণে এ ঈদ সাধারণ মানুষের কাছে কুরবানির ঈদ বলে পরিচিত। ঈদ-উল-আজহায় পশু কুরবানি করা হয় প্রতীকী অর্থে। আসলে কুরবানি দিতে হয় মানুষের ষড় রিপুকে: কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতাকে।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন :ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা
-------------------------------------------------------

পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেন, ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে ত্যাগের শিক্ষা প্রতিফলিত হলেই প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি ও সৌহার্দ্য। কুরবানির মর্ম অনুধাবন করে সমাজে শান্তি ও কল্যাণের পথ রচনা করতে আমাদের সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ঈদ শান্তি, সহমর্মিতা, ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়। আসুন, আমরা সকলে পবিত্র ঈদ-উল-আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ-নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কাজে অংশ নিয়ে বৈষম্যহীন সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

রাষ্ট্রপতি সকাল সাড়ে দশটায় বঙ্গভবনে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে বঙ্গভবনে সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসভবন গণভবনে দলীয় নেতাকর্মী, বিচারক, বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গণভবনে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মী, কবি-সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীসহ সর্বস্তরের জনগণ ও পেশাজীবীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

তিনি আরও জানান, পরে প্রধানমন্ত্রী একই স্থানে বেলা ১১টায় বিচারক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিদেশি কূটনীতিক, জ্যেষ্ঠ সচিব এবং সচিব পদমর্যাদার বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

ঈদ-উল-আজহায় মুসল্লিদের প্রধান কর্তব্য দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ জামাতে আদায় করে আল্লাহ তাআলার উদ্দেশে পশু কুরবানি করা। ঈদের জামাতের খুতবায় খতিব ঈদের তাৎপর্য তুলে ধরবেন। নামাজ আদায়ের পর শুরু হবে কুরবানি। জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদ-উল-আজহা হলেও ১১ ও ১২ জিলহজেও পশু কুরবানি করার বিধান রয়েছে।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন :প্রিমিয়ার ব্যাংক ম্যানেজারের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ২৩ লাখ টাকা লুট
-------------------------------------------------------

এবার ঈদ-উল-আজহার প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায়। এতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ এহসানুল হক। বিকল্প ইমাম হিসেবে থাকবেন ঢাকার মিরপুরের জামেয়া আরাবিয়া আশরাফিয়ার মুহতামিম মাওলানা সৈয়দ ওয়াহিদুয্যামান। জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেবেন।

বায়তুল মোকাররমের প্রথম ঈদ জামাত শুরু হবে সকাল ৭টায়। এতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৮টায়। ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ড. মাওলানা মুশতাক আহমাদ। তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায় হবে। ইমামতি করবেন মহাখালীর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা নজরুল ইসলাম আল মারুফ। চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় হবে। ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। পঞ্চম জামাত হবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে। ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রব মিয়া আল বাগদাদী।

সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদ-উল-আজহার নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিদের সুবিধার্থে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যাপ্ত পানি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদগাহের প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ মাঠে প্রবেশের তিনটি রাস্তা থাকবে। থাকবে পুলিশ ব্যারিকেড ও তল্লাশি চৌকিও। তিনটি ব্যারিকেডে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পার হয়ে তারপর প্রধান গেটে নিরাপত্তা তল্লাশি পার হয়ে মাঠে প্রবেশ করতে হবে।

এছাড়া রাজধানীর প্রতিটি ঈদের জামাতকে নিরাপদ রাখতে ১৪ হাজার ডিএমপি সদস্য নিয়োজিত থাকবে। প্রত্যেকটি ঈদগাহ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসছে। এসব সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম থেকে মনিটরিং করা হবে।

আরও পড়ুন :

এমসি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়