সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঈদ-উল-আজহা উদযাপিত

প্রকাশ | ২১ আগস্ট ২০১৮, ১৫:৫৫ | আপডেট: ২১ আগস্ট ২০১৮, ১৬:৪০

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ মঙ্গলবার ঈদ-উল-আজহা উদযাপিত হয়েছে। আরটিভি অনলাইনের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

লক্ষ্মীপুর: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে জেলার ১০টি গ্রামে আজ মঙ্গলবার ঈদ-উল-আজহা উদযাপিত হয়েছে। জেলার রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও, জয়পুরা, বিঘা, বারো ঘরিয়া, হোটাটিয়া, শরশোই, কাঞ্চনপুর ও রায়পুর উপজেলার কলাকোপা ও সদর উপজেলার বশিকপুরসহ ১০টি গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক মুসল্লি আজ ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করেছেন।

সকাল নয়টায় খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া রামগঞ্জ উপজেলা শাখার ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মো. মনিরুল ইসলাম মজুমদার। ওইসব গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক মুসল্লি পৃথক পৃথকভাবে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ পরবর্তী তারা বিশ্ব মুসলিম উম্মার শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন। এরপর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কুরবানির পশু জবাই করেন।

মাওলানা ইসহাক (রাঃ) অনুসারী হিসেবে এসব এলাকার মানুষ পবিত্র ভূমি মক্কা ও মদিনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ঈদসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। এসব গ্রামের মুসল্লিরা গত ৩৮ বছর যাবত সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন :রাজধানীতে ঈদ জামাত হবে ৪০৯টি
-------------------------------------------------------

পটুয়াখালী: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পটুয়াখালীর ২২ গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মুসল্লি আজ মঙ্গলবার ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করছেন। এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টায় সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরিফে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের ইমামতি করেন বদরপুর দরবার শরিফ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. অলিউল্লাহ। ঈদের জামাত শেষে এসব গ্রামের মুসল্লিরা কুরবানির পশু জবাই করেন। সৌদি আরবের সঙ্গে সংগতি রেখে ১৯২৮ সাল থেকে এসব গ্রামের মুসল্লিরা প্রতি বছর আগাম রোজা রাখা এবং ঈদ-উল ফিতর ও ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করে আসছেন।

জানা যায়, জেলার কলাপাড়া, গলাচিপা ও বাউফল উপজেলার ২২ গ্রামে অনুরূপভাবে ঈদ-উল-আজহা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব গ্রামের মধ্যে রয়েছে গলাচিপার সেনের হাওলা, পশুরিবুনিয়া, নিজ হাওলা, কানকুনিপাড়া, মৌডুবি, বাউফলের মদনপুরা, রাজনগর, বগা, ধাউরা ভাঙ্গা, সুরদি, চন্দ্রপাড়া, দ্বিপাশা, শাপলাখালী, কনকদিয়া, আমিরাবাদ, কলাপাড়ার নিশানবাড়িয়া, ইটবাড়িয়া, নাঈয়া পট্টি, টিয়াখালী, তেগাছিয়া ও দক্ষিণ  দেবপুর।

এ ব্যাপারে বদরপুর দরবার শরিফ ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্পাদক নাজমুল শাহাদাৎ জানান, মঙ্গলবার এখানে ঈদ-উল-আজহা উদযাপিত হয়। সকাল নয়টায় বদরপুর দরবার শরিফে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ১৯২৮ সাল থেকে এখানে আগাম রোজা, ঈদ-উল-ফিতর, ঈদ-উল-আজহা উদযাপিত হয়ে আসছে।

দিনাজপুর: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দিনাজপুর সদরসহ আরও তিনটি উপজেলার কয়েকটি এলাকায় আজ মঙ্গলবার পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করছে বেশ কিছু পরিবার। এসব পরিবারের মুসল্লিরা বিভিন্ন স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টি এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে (পার্টি সেন্টার) সকাল সাড়ে আটটায় অনুষ্ঠিত ঈদের জামায়াতে নারী-পরুষসহ প্রায় দুইশ মুসল্লি অংশ নেন। এখানে ইমামতি করেন মাওলানা সাইফুল ইসলাম। এছাড়াও জেলার চিরিরবন্দর কাহারোল ও বীরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি স্থানে আজ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন :ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে একটু ধীর একটু গতি
-------------------------------------------------------

বরিশাল: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বরিশাল জেলার কয়েকটি স্থানে আগাম ঈদ-উল-আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল নয়টা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত বরিশালের পাঁচ উপজেলার কাদেরিয়া তরিকা মতে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার এলাহাবাদ দরবার শরিফের অনুসারী প্রায় ১০ হাজার পরিবার শত বছর ধরে এ ঈদের জামাতে অংশ নেয়।

সকাল নয়টা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকার হরিনাফুলিয়া, তাজকাটি, জিয়া সড়কে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। শত শত মানুষ এসময় ঈদের জামাত আদায় করেন। ঈদের জামাত শেষে দেশের উন্নতি, সমৃদ্ধি ও মুসলিম উম্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ঈদ উপলক্ষে নির্মাণ করা হয় সুদৃশ্য তোরণ। ঈদের নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। পরে তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য পশু কুরবানি দেন। সিটি করপোরেশন এলাকায় তিনটি, বন্দর থানা সাহেবের হাটে দুটি, বাবুগঞ্জ উপজেলায় চারটি, হিজলায় দুটি, মেহেন্দিগঞ্জে দুটি, বাকেরগঞ্জের একটি স্থানে পবিত্র ঈদ-উল-আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

মাদারীপুর: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করেছেন মাদারীপুরের চারটি উপজেলার ৩০ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলেও প্রধান ও বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে মাদারীপুর সদর উপজেলার তাল্লুক গ্রামের চরকালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টায় ঈদের জামাত পড়ান ইমাম আব্দুল হাশেম ফকির। জামাত শেষে একে অপরকে কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে সুরেশ্বর দায়রা শরিফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরিফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রা:) এর ভক্তরা বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করেছেন।

সুরেশ্বর দায়রা শরিফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রা:) এর অনুসারীরা ১৪৭ বছর পূর্ব থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ-উল-আজহা পালন করে আসছেন।

সাতক্ষীরা: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে সাতক্ষীরার তিন উপজেলার তিনটি স্থানে ঈদ-উল-আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার বাওকোলা পূর্ব-পাড়া জামে মসজিদে সকাল আটটায় ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।

নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মহব্বত আলী। এতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সাতানি, ভাদড়া, বাওকোলা, মৃগিডাঙ্গা, মল্লিকপাড়া, ভাড়খালি, মাহমুদপুর এবং তালা উপজেলার ইসলামকাটি ও সুজনশাহা গ্রামের শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। এছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর ও কালিগঞ্জে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলার এই তিনটি স্থানের ঈদের জামায়াতে প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

মুন্সিগঞ্জ: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মুন্সিগঞ্জের নয়টি গ্রামে ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে শিলই ঈদগাহে প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে কয়েকশ মুসুল্লি অংশ নেন। নামাজ শেষে  কুরবানি করছেন তারা। গ্রামগুলো হলো-সদর উপজেলার আনন্দপুর, শিলই, নায়েবকান্দি, আধারা, মিজিকান্দি, কালিরচর, বাংলাবাজার, বাঘাইকান্দি, কংসপুরার একাংশ।

গ্রামগুলোর জাহাগিরিয়া তরিকায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

নারায়ণগঞ্জ: ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদ-উল-আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টায় হযরত শাহ্ সুফী মমতাজিয়া এতিমখানা ও হেফজখানা মাদরানায় ‘জাহাগিরিয়া তরিকার’ অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদেও নামাজ আদায় করে ঈদ উদযাপন করেন। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের জামাতে অংশ নিতে গাজীপুরের টঙ্গী, ঢাকার কেরাণীগঞ্জ, পুরাতন ঢাকা, ডেমরা, সাভার এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, বন্দর ও সোনারগাঁও উপজেলা থেকে মুসল্লিরা অংশ নেন। ঈদের জামাতের ইমামের দায়িত্ব পালন করেন হযরত শাহ্ সুফী মমতাজিয়া মাদরাসার ইমাম মুফতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন শুভ। জামাত শেষে পশু কুরবানি করেন মসুল্লিরা।

 

আরও পড়ুন :

জেবি/পি