• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

রাজধানীর হাটে পশু বিক্রি শুরু

মিথুন চৌধুরী
|  ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৯:১৭ | আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ২১:১৬
আগামী বুধবার মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-আজহা বা কুরবানির ঈদ। ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বসেছে কুরবানির পশুর হাট। গেলো কয়েকদিন রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পশু আসা শুরু করে।  এসময় হাটে দর্শনার্থী দেখা গেলেও ক্রেতা তেমন ছিল না বললেই চলে। তবে আজ শনিবার থেকে পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। হাটগুলোতে ভিড় বেড়েছে। ক্রেতাদের পছন্দের পশু দর কষাকষি করতে দেখা যায়। দামে বনিবনা হলে ক্রেতারা কুরবানির পশু নিয়েই ফিরছেন।

শনিবার রাজধানীর গাবতলী, শাহজাহানপুর, কমলাপুর, আফতাবনগরসহ কয়েকটি পশুরহাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়- বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকৃতির দেশি গরুর চাহিদা বেশি। তবে দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি বলে জানান ক্রেতারা। হাটে সারি সারি পশু নিয়ে বিক্রেতারা দাঁড়িয়ে আছেন। হাটগুলোতে যথেষ্ট পশু সরবরাহ রয়েছে। ক্রেতা উপস্থিতিও অনেক। হাসিল ঘরগুলোর সামনে বিক্রি হওয়া গরুর হাসিল পরিশোধের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।

পাবনা থেকে ২০টি গরু নিয়ে গাবতলী হাটে এসেছেন সমীর ব্যাপারি। গেলো বৃহস্পতিবার তিনি হাটে এসেছেন। দুই দিন কোনও গরু বিক্রি হয়নি। শনিবার সকালে দুটি গরু বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, মূলত আজ থেকে পশু বিক্রি শুরু। আগামীকাল থেকে ক্রেতা আরও বাড়বে।

------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন  : ঢাকা-টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের ধীর গতি
------------------------------------------------------------------

গাবতলী হাটে ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে দাম যাচাই-বাছাই করছিলেন। মিরপুর ১ নম্বর থেকে হাটে এসেছেন আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু বেশি মনে হয়েছে। তবে কুরবানির পশুর বিষয়ে দাম নিয়ে এতো চিন্তা করছি না। পশু পছন্দ হলে আর দাম সাধ্যের মধ্যে হলেই গরু কিনে ফিরবো।

বিক্রেতারা জানান, এবারে দেশি গরুর বেচাকেনা বেশি। ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে দেশি জাতের ছোট ও মাঝারি গরুর বিক্রি ভালো।

শান্তিনগর থেকে কমলাপুর হাটে গরু কিনতে এসেছেন মিল্লাত খান। তিনি মাঝারি আকৃতির একটি গরু কিনেছেন ৭৫ হাজার টাকায়। তিনি বলেন, গরুর আকৃতি ও আনুমানিক ওজন অনুযায়ী দাম মোটামুটি ঠিক আছে। ক্রেতা-বিক্রেতার চাহিদা, রুচি অনুযায়ী দাম একটু কম-বেশি হবে, সেটাই স্বাভাবিক। আর যেহেতু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কেনা তাই ওজন নিয়ে ভাবছি না। ভাগ্যে যা ছিল তাই পেয়েছি, এতেই খুশি।

কমলাপুর হাটে পশুর সরবরাহ পর্যাপ্ত। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার উপস্থিতিও বেড়েছে। হাট ইজারাদার বলছেন, সকাল থেকে গরু হাসিলের জন্য আসছে। বিকেলের মধ্যে ক্রেতা সমাগম আরও বৃদ্ধি পাবে।

আফতাবনগর হাটে শনিবার দুপুরে কথা হয় কুষ্টিয়ার গরুর ব্যাপারি রশিদ মিঞার সঙ্গে। তিনি জানান, এবার বড় আকৃতির ২৫টি গরু এনেছেন। একেকটি গরুর দাম যেখানে আড়াই লাখ টাকা প্রত্যাশা করছেন, সেখানে ক্রেতারা দাম বলছেন ৯০ হাজার থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা। তার ভাষায়, খরচের দামই বলছেন না ক্রেতারা।

এ সময় পাশেই থাকা আরেকজন ব্যাপারি বলেন, গতবার যে গরুর দাম উঠেছিল এক লাখ ২৭ হাজার টাকা, এবার সে গরুর দাম উঠছে ৮১ হাজার টাকা। রাজধানীর হাটগুলোতে কুরবানির জন্য আনা পশুর মধ্যে আছে গরু, ছাগল, মহিষ, উট ও ভেড়া।

রাজধানীর প্রায় সব সড়কে আজ গরু, ছাগল নিয়ে ক্রেতাদের বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। পশুগুলো পাচ্ছে ভিআইপি মর্যাদা। যানবাহন ও পথচারীরা এদের চলার পথ বাধামুক্ত করতে জায়গা ছেড়ে দিচ্ছে। এমনকি রাস্তা পারাপারের সময় গরুগুলো দাঁড়িয়ে না রেখে যানবাহন থামিয়ে দিচ্ছে ট্র্যাফিক পুলিশ।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখে (২২ আগস্ট) মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে পশু কুরবানি করবেন। রাজধানীতে এ বছর মোট ২৩টি পশুর হাট বসেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১০টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩টি হাট বসেছে। এছাড়া বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়ও নিজ উদ্যোগে অনেককে গরু বিক্রি করতে দেখা যায়।

প্রতিটি হাটে আনসার, পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের তৎপরতা দেখা যায়। অনেক হাটে পুলিশ ওয়াচ টাওয়ারও বসিয়েছে। রাজধানীর পশুর হাটে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি হাটে জাল টাকা রোধে বসানো হয়েছে ব্যাংকের বুথ।

 

আরও পড়ুন  :

এমসি/পি

 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়