• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

প্রস্তুত ব্যাপারিরা, অপেক্ষা ক্রেতার

রাফিয়া চৌধুরী
|  ১৭ আগস্ট ২০১৮, ২০:৩৪ | আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৮, ২১:০১
পবিত্র ঈদ-উল-আজহার আর মাত্র বাকি পাঁচদিন। তাই শুক্রবার ছুটির দিনে হাটে প্রত্যাশিত ক্রেতা না থাকায় কিছুটা হতাশ ব্যাপারিরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অনুমোদিত কচুক্ষেত বাজারে গত দুইদিন ধরে ব্যাপারিরা গরু নিয়ে আসছে। হাটে পর্যাপ্ত গরু থাকলেও কেনার মতো ক্রেতা আসেনি। বেশিরভাগ ক্রেতা ঘুরে ঘুরে হাট দেখছে। গরুর দাম জিজ্ঞাসা করছে। কিন্তু ক্রেতারা নেয়ার জন্য কোনও দাম এখনও বলছে না। তাই ব্যাপারিরা অলস সময় কাটাচ্ছেন।

হাটের ইজারাদাররা বলছেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারিরা গরু-ছাগল নিয়ে ভিড় করছে। ঢাকা শহরে সবাই ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকেন। এখনও ঈদের কয়েকদিন বাকি। কুরবানির পশু কিনে কোথায় রাখবে এই সমস্যা তো থাকেই। তাই আশা করছি ঈদের দুই-একদিন আগে হাট জমে উঠবে। হাটে ভারতীয় গরুর চেয়ে দেশি গরুর সরবরাহ বেশি। তবে দাম একটু চড়া।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন  : লক্ষ্মীপুরে পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু
-------------------------------------------------------

আলতাফ ব্যাপারি মেহেরপুর থেকে ৩০টি গরু নিয়ে এসেছে এই হাটে। তিনি এর আগেও এই হাটে কুরবানির পশু নিয়ে এসেছেন। হাটটিতে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে। টাকা চুরি হয় না। কোনও চাঁদাবাজি হয় না। এছাড়া এই হাটে প্রচুর ক্রেতা হয়।

এখন পর্যন্ত হাটে যে কয়জন ক্রেতা এসেছেন কথা বলে জানা গেলো, তাদের দেশি গরুর চাহিদা বেশি। এমনকি হাটে কয়েক বছর ধরে দেশি গরুর চাহিদা বেশি থাকায় খামারিরা লাভবান হচ্ছেন। অনেকেই বাড়তি লাভের আশায় বাড়িতে ছোট আকারের খামার তৈরি করে ফেলেছেন। কিন্তু হঠাৎ করে গোখাদ্যের দাম বাড়ায় খামারগুলোতে গরু পালনের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তাই দেশি গরুর দাম এবার অন্য বছরের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।

কচুক্ষেত হাটের পরিচালক আব্দুর রশিদ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, গতকাল (১৬ আগস্ট) থেকে হাটে ব্যাপারিরা গরু আনা শুরু করেছে। প্রায় ১০০ ব্যাপারিরা এরই মধ্যে ২ হাজার গরু নিয়ে এসেছে। ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অনুমোদিত হওয়ার কারণে এখানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে পুরো হাটটি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। প্রায় ২৯ জন পুলিশ সব সময় পাহারায় রয়েছে। এছাড়া ব্যাপারিদের জন্য পানি ও খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। 

মাইকের মাধ্যমে সব সময় ক্রেতা-বিক্রেতাদের লেনদেন করতে সতর্ক থাকার পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তবে হাটে এখন পর্যন্ত অবৈধভাবে গরু মোটাতাজাকরণ করেছে কি না তা পরীক্ষা করার জন্য ডাক্তার আছে। এছাড়া কোনও মানুষের শারীরিক কোনও সমস্যা হলে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ডাক্তার রয়েছে। জালনোট শনাক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। সব মিলিয়ে পশুরহাটে ধীরে ধীরে কেনাবেচা জমে উঠেছে বলেও জানান হাট ইজারাদার।

ইসমাইল হোসেন এই হাটে গরু কিনেছেন। তিনি বলেন, আমার বাসার কাছে কচুক্ষেত হাট। পাশেই ডিওএইচএসের হাটটি দেখেছি। সেখানে তুলনামূলকভাবে কুরবানির পশুর দাম বেশি। এখানে দাম কিছুটা কম মনে হচ্ছে। তাছাড়া এটা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার আওতায় হওয়ার কারণে পরিবেশ ভালো। এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে নিরাপত্তার সাথে কুরবানির গরু কেনা যায়।

আরও পড়ুন  :

আরসি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়