গোয়েন্দা প্রধানদের কারণেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্র সফল হয়েছিল (ভিডিও)

প্রকাশ | ১৫ আগস্ট ২০১৮, ১৩:১০ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০১৮, ১৩:৪৮

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

গোয়েন্দা ব্যর্থতা নয়, বরং দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার কারণেই জাতির পিতাকে হত্যার ষড়যন্ত্র সফল হয়েছিল বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ষড়যন্ত্রকারীরা সে সময়কার গোয়েন্দা সংস্থার পুরোপুরি সহযোগিতা পেয়েছিল। তাই, বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে সরাসরি যুক্তদের পাশাপাশি নেপথ্যে থাকা তৎকালীন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

যুদ্ধাহত ওয়ারেন্ট অফিসার (অব:) মোখলেছুর রহমান জানান, দেশের মানুষের প্রতি জাতির জনকের আস্থা ছিল প্রবল। তিনি বাঙালি জাতিকে এতটা বিশ্বাস করতেন, উনাকে কেউ হত্যা করতে পারে এটা তার বিশ্বাসই ছিল না।

মুক্তিযোদ্ধা মোখলেছুর রহমান তৎকালীন দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের হয়ে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, উনার সবচে বড় ব্যবহারটা ছিল তুই, তুমি বলা। তুই, তুমির যে ব্যবহারটা এটা আমাদের কাছে খুব ভালো লাগতো।

সাধারণের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা আর বিশ্বাস ছিল বঙ্গবন্ধুর। যে কারণেই সরকারি গণভবন রেখে তিনি ধানমন্ডি ৩২-এর দরজা খোলা রাখতেন সব মানুষের জন্য।

অথচ এই অতি আত্মবিশ্বাসই কাল হয়ে দাঁড়ায়। চরম মূল্য দিতে হয় জাতির পিতাকে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদদ ছিল। কিন্তু কোনও ষড়যন্ত্রই সফল হয় না, যদি না তাতে ভেতরের কারও মদদ থাকে।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : বিদেশে পলাতক ৪ খুনির অবস্থান শনাক্ত হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
-------------------------------------------------------

নিরাপত্তা বিশ্লেষক (অব:) মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, তখন বাংলাদেশে প্রধানত তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা ছিল। এর মধ্যে এনএসআইর প্রধান ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত এখানে যে ধ্বংসযজ্ঞ চলে তাদের সহযোগী হিসেবে সরাসরি কাজ করেছিল। তারপরে ডিজিএফআইর প্রধান ছিলেন পাকিস্তান থেকে ফেরত আসলেন এমন একজন অফিসার। এসবির যিনি প্রধান ছিলেন, তিনিও ঢাকায় বসে পাক বাহিনীকে সহযোগিতা করেছেন। সুতরাং বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পেছনে গোয়েন্দাদের ব্যর্থতা না, আমি বলব, গোয়েন্দা সংস্থার যারা প্রধান ছিলেন তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

যারা সরাসরি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল তাদের বিচার হয়েছে বা হচ্ছে এখনও। কিন্তু যারা নেপথ্যে থেকে জাতির পিতাকে হত্যায় ইন্ধন যুগিয়েছে তারা কি ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাবে?

এই বিষয়ে মোহাম্মদ আলী শিকদার আরও বলেন, কথাগুলো আমরা বিক্ষিপ্তভাবে বলছি একেকজন, যে গোয়েন্দাদের ষড়যন্ত্র জড়িত ছিল। আরও ব্যক্তিবর্গ জড়িত থাকতে পারে এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে। এখন এটি উদঘাটিত করে যদি সংরক্ষিত হয় তাহলে বাংলাদেশের আগামী প্রজন্ম বুজতে পারবে একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিভাবে ষড়যন্ত্র হয়, এবং সেই ষড়যন্ত্র কিভাবে বাস্তবায়িত হয়।   

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করে জাতির জনককে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত সবাইকে খুঁজে বের করা জরুরি। আর তা না হলে ষড়যন্ত্রকারীদের অনেকেই পার পেয়ে যাবে।

আরও পড়ুন : 

জেবি