• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

শিক্ষার্থীরা পুলিশের নৈতিক ভিতকে জাগিয়ে তুলেছে: ডিমপি কমিশনার

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৪ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৪৫ | আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৫০

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী পুলিশের নৈতিক ভিতকে জাগিয়ে তুলেছে বলে মন্তব্য করলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের(ডিএমপি) কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া।

শনিবার ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আমার মনে করি যে আমাদের সাধারণ ছাত্ররা যে অভিপ্রায় নিয়ে মাঠে নেমেছে, সেটাকে অবশ্যই আমারা স্যালুট করি এবং ধন্যবাদ জানাই। এই কাজ আমাদের আরও আগে করার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে করতে তা পারেনি।

তিনি বলেন, তারা পুলিশের নৈতিক ভিতকে জাগিয়ে তুলেছে, অনেক শক্তিশালী করেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি তারা কোনোভাবেই আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। বরং তারা আমাদের পরিপূরক, আমাদের সমর্থক। তাদের কাছ থেকে আমরা ভবিষ্যতে ট্র্যাফিক আইন প্রয়োগের নৈতিক ভিত্তি ও সাহস পেয়েছি।  তারা ট্র্যাফিক সপ্তাহে সহায়তা করতে চাইলে তাদেরকে স্বাগত জানানো হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সব যুক্তিপূর্ণ দাবিকে সমর্থন করেছেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে তিনি সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছেন। শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আপনারা জানেন যে নিহত ছাত্র-ছাত্রীর পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা করে সঞ্চয়পত্র প্রদান করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, রমিজউদ্দিন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের আসা-যাওয়ার জন্য পাঁচটি বাস দেয়া হয়েছে। তাদের যেন রাস্তা পার হতে না হয়, সেজন্য আন্ডার পাস তৈরির করার জন্য সেনাবাহিনীকে ইতোমধ্যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি যে সড়কের এই অব্যবস্থা দীর্ঘদিনের। একটি যুগোপযোগী আইন করার জন্যে ইতোমধ্যে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ‘গণপরিবহন ও ট্র্যাফিক আইন’ নামে একটি আইন আগামী সোমবার মন্ত্রীসভার বৈঠকে অনুমোদন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নির্দেশনা থাকবে এই আইনে।  শাস্তির মেয়াদ বৃদ্ধি, সড়কে নিরাপদ কাউন্সিল এবং সড়ক বিশেষজ্ঞ, ট্র্যাফিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদও গঠিত হবে। এই আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সড়ক-মহাসড়কের শৃঙ্খলা দ্রুত ফিরে আসবে।

রাজধানীর কুর্মিটোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের মামলা প্রসঙ্গে আছাদুজ্জামান বলেন,  সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে এই মামলা তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ। ইতোমধ্যে বাস দুটোকে জব্দ করা হয়েছে।  বাসটির নিবন্ধন ও রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে ভবিষ্যতে যাতে এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, সেই ব্যাপারে সুপারিশ এবং ঘটলে প্রয়োজনীয় শাস্তির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ট্র্যাফিক ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা স্বত্বেও ডিএমপি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গত তিন থেকে সাড়ে তিন বছরে অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। উল্টোপথে গাড়ি যাওয়া, ট্র্যাফিক লেন না মানা, বিভিন্ন স্টিকার লাগিয়ে ট্র্যাফিক সিগন্যাল না মানা, তিনজন মোটরসাইকেলে না চলা, হেলমেট পরিধান না করা, হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার না করা, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা, ফুটপাতে মোটরসাইকেল না ওঠানো এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন পেশাজীবীদের স্টিকার লাগিয়ে ট্র্যাফিক সিগন্যাল না মানা এবং ভিআইপি হলে ট্র্যাফিক সিগন্যাল না মানার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এমন উদাহরণের সংখ্যা কম হলেও এই কার্যক্রম আমরা শুরু করেছি।

ভৌত অবকাঠামো না থাকা ট্র্যাফিক ব্যবস্থা শৃঙ্খলায় আনার বড় বাধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোড ইঞ্জিনিয়ারিং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঢাকা শহরে কোনও বাস টার্মিনাল নেই। যেগুলা আছে, সেগুলো বাসডিপোতে পরিণত হয়েছে। নো পার্কিং করলে আমরা ফাইন করি এবং রেকারিং করি। এসব সমস্যা দীর্ঘদিনের। নানা সীমাবদ্ধতা নিয়েও আমরা ট্র্যাফিক আইন প্রয়োগ করছি।

তিনি বলেন, জীবনের ঝুঁকি, রোদ, বৃষ্টি, শৈত্যপ্রবাহ, তাপদাহকে উপেক্ষা করে ট্র্যাফিক পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে। সাফল্য আমাদের এসেছে। তবে এটাকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিতে হবে।  এই প্রচেষ্টা আমাদের অব্যাহত আছে।

তিনি আরও বলেন, আমি উদ্বেগের সঙ্গে আপনাদের জানাতে চাই। আমাদের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা যে দাবিতে আন্দোলন করছে, তার উদ্দেশ্য অন্তত মহৎ। তাদের দাবি নিরাপদ সড়ক তৈরি করা। তাদের দাবিগুলোকে সরকার যেমন সমর্থন করেছে, নৈতিকভাবে ডিএমপি’র কমিশনার হিসেবে আমিও সমর্থন করছি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, তবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইন্টিলেজেন্ট রিপোর্ট, সোশ্যাল মিডিয়া রিপোর্ট এবং আমাদের সোর্স রিপোর্টের ভিত্তিতে আমাদের কাছে প্রমাণিত হয়েছে যে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এই আন্দোলনে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তাই আমারা ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতে বিএনপিকে দোষারোপ করছেন কাদের: ফখরুল
-------------------------------------------------------

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন রাজধানীর শনির আখড়ায় দুজন আহত হয়েছে।  একজনের নাম রাব্বি। তিনি দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। একটি পিকআপ গাড়িকে থামাতে যায় সে। পিকআপটিও দ্রুত পালাতে যায়। তখন পিকাআপের নিচে পড়ে আহত হয় সে। পায়ে মারাত্মক আঘাত পেয়েছে সে। ঠিক তার পরের দিন তোলারাম কলেজের আরেক ছাত্র একইভাবে আহত হয়।

এই ঘটনাগুলোর জন্য আমার উদ্বিগ্ন হয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে মিশে উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে ছাত্রদের স্কুল ড্রেস বিক্রি ও বানানোর পরিমাণ বাড়বে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবি অন্য খাতে নিয়ে ঘোলা জলে মাছ শিকারের চেষ্টা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ করে ফেসবুকে নানা উসকানিমূলক পোস্ট ও তথ্য দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে নোংরা ভাষায়, যা আমি মুখে বলতে পারছি না।

এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, নোংরা ভাষার প্ল্যাকার্ড নিয়ে ক্লাস সিক্স-সেভেন-এইটের ছাত্র-ছাত্রীদের রাস্তায় দাঁড়ানো তাদের দোষ না। তারা বুঝতে পারছে না হয়তো কী ধরনের প্ল্যাকার্ড বহন করছে। কিন্তু একটি মহল এই ধরনের প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করে পুলিশ, রাষ্ট্র এবং বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নামে নোংরা ভাষায় অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা জনসম্মুখে বলা যায় না।

পুলিশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে আছাদুজ্জামান বলেন, ২০১২ ও ২০১৩ সালে আন্দোলনের নামে অগ্নিসংযোগ চালানোর সময় পুলিশ যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল, সেসব ছবি পোস্ট করে বলা হচ্ছে বর্তমান আন্দোলনে পুলিশ এভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের নিগৃহীত করছে।

তিনি বলেন, পুলিশ ২৯ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করছে।  দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। তবু গত কয়েকদিনে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। রাজারবাগ পুলিশ লাইনে হামলা চালানো হয়েছে। যার ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। মিরপুর পুলিশ লাইনে হামলা করা হয়েছে, কাফরুল থানায় হামলা চালানো হয়েছে।  কাফরুল থানার ইন্সপেক্টর অপারেশন মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে আছে। থানার মধ্যে হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি ৩১ বছর এই পুলিশ বিভাগে চাকরি করেছি। চাকরির শেষ সময়ে আছি।  আমার চাকরি জীবনে রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও মিরপুর লাইনে এমন হামলার দৃশ্য আমি দেখিনি।  আমি মনে করি সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা যারা, এই ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে, তাদের দ্বারা এই কাজ হতে পারে না।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা উসকানিমূলক ঘটনা ঘটিয়ে পুলিশকে উসকে দিয়ে জনগণের বিরুদ্ধে লাগিয়ে একটি নৈরাজ্যকর অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করেছে।  আমাদের এক সার্জেন্টকে ডিউটি চলাকালীন তার মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং তার মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়েছে। গুরুত্বর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ীতে একজন পুলিশ সদস্যকে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়েছে। এভাবে পুলিশের ওপর বিক্ষিপ্তভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। যাতে পুলিশ উত্তেজিত হয়ে এই আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর আঘাত করে। এতো উসকানির পরও আমরা চরমভাবে ধৈর্য ধারণ করছি। আমরা পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছি। কারণ আমরা বিশ্বাস করি আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী।

তিনি আরও বলেন, এই ছাত্রদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে এভাবে সড়ক অবরোধ ও চেকিং করার যেমন ভালো দিক আছে, তেমনি তার চেয়ে খারাপ দিকও আছে।  আপনারা দেখেছেন ইতোমধ্যে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। জনদুর্ভোগ এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামতে ভয় পাচ্ছে।  ইতোমধ্যে টাউন সার্ভিস, দূরপাল্লার সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেছে। হজযাত্রীরা যানবাহনের অভাবে ফ্লাইট মিস করছে।  বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকা-শহরে দ্রব্যাদি আসে, বিশেষ করে কাঁচা সবজি, মাছ ও মাংস আসতে পারছে না। দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। নানা ধরনের জনদুর্ভোগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।

আছাদুজ্জামান বলেন, এসব কারও কাম্য হতে পারে না। এসব আমাদের জন্য শুভকর না আন্দোলনকারীদের জন্যও না। না রাজধানীর জন্য, না বাংলাদেশের জন্য। এই অব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগ দীর্ঘদিন চলতে পারে না। এখানে কর্মজীবী মানুষ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।  এমনকি তাদের কর্মস্থলে আসা-যাওয়া চরম অনিশ্চয়তা দেখে দিয়েছে। 

তিনি বলেন, আগামীকাল সকাল থেকে ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশে ট্র্যাফিক সপ্তাহ চালানো হবে।  ট্র্যাফিক আইন না মানা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যাতে প্রভাবশালীরাও ছাড় পাবে না। ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস থেকে শুরু করে সব জায়গায় আইন না মানার সংস্কৃতি।

তিনি আরও বলেন, আমরা ঢাকা শহরের কোনও কোনও এলাকায় খুব আইন মানি, কিন্তু সেই এলাকা পার হয়ে আর আইন মানি না। সবাইকে ট্র্যাফিক ব্যবস্থাকে উন্নত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে হবে।  আমাদের অনেক ব্যর্থতা থাকতে পারে কিন্তু ত্যাগ কম নয়।

আমরা আন্তরিকভাবে সংবিধান ও আইন অনুসারে দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিচ্ছি উল্লেখ করে তিনি বলেন,  অনেক সীমাবদ্ধতার পরও ভালো সার্ভিস দেয়ার চেষ্টা করি। নোংরা ভাষার প্ল্যাকার্ড ও ফেসবুকে বিরূপ ও নেতিবাচক পোস্ট দিয়ে সুশৃঙ্খল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেয়া দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলকর নয়।

শেষমেশ তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর ধন্যবাদ জানিয়ে তাদেরকে স্কুলে ফেরত যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। অভিভাবক ও শিক্ষকদের বলছি তাদের ক্লাসে ফেরত নিয়ে যান। তারাই একদিন দেশের হাল ধরবে।

আরও পড়ুন: 

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে অভিনেত্রী নওশাবা আটক

 

কে/

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়