• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ৮ কার্তিক ১৪২৫

‘আমি কেন বারবার লাইসেন্স দেখাবো’

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৪ আগস্ট ২০১৮, ১৯:২৪ | আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৮, ২১:১৯
ছবি-সংগৃহীত
গেলো ২৯ জুলাই রোববার দুপুরে ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস শিক্ষার্থীদের ওপর ওঠে যায়। এতে নিহত হন দিয়া ও করিম নামে দুই শিক্ষার্থী। ওই দুর্ঘটনায় ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী আহতও হন। এ ঘটনায় দিয়ার বাবা ওই দিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করেন।

এ ঘটনার পর থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। আজ শনিবারও তাদের  আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা। সকাল থেকেই ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করে। রাস্তায় ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের দায়িত্ব নেয় শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করে তারা।

শিক্ষার্থীদের এই ভূমিকায় তোলপাড় এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। অনেকেই তাদের সমর্থন দিয়ে বলছেন, শিক্ষার্থীরা যে কাজটি মাত্র ছয়দিনে করেছেন সেটা দায়িত্ববানরা কখনই করতে পারে নাই। রাস্তায় শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছে। তারা দেখিয়ে দিয়েছে রাস্তায় কীভাবে শৃঙ্খলা আনতে হয়।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে বিএনপি নেতা আমির খসরুর ফোনালাপ ভাইরাল
-------------------------------------------------------

তবে শিক্ষার্থীদের কিছু কাজে নাখোশ অনেকে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে আমরা একাত্ম প্রকাশ করি, তারা যেটা করেছে সেটা অনেক ক্ষেত্রে যৌক্তিক। তবে তাদের কিছু কাজে মানুষ হয়রানি হচ্ছে।

রাকিব নামে একজন লিখেছেন, আমার মোটরসাইকেলের সব কাগজ এবং লাইসেন্স আছে, অফিস যাওয়ার সময় আমাকে এক মিনিট পর পর লাইসেন্স দেখাতে হচ্ছে। টানা কয়েকদিন ধরেই এমন হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে দয়া করে সচেতন হও। কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়।

আলামিন নামে এক বেসরকারি কর্মজীবী লিখেছেন, আমি লাইসেন্স করেছি। শিক্ষার্থীরা আমাকে আটকে দিয়েছে। আমার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেছে। আমার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করার অধিকার আমি কাউকেই দেইনি। ছেলেদের আরও বুঝে কাজ করা উচিৎ। কেউ যেন তাদের এই কার্যক্রম খারাপভাবে নিতে না পারে। তা না হলে তাদের আন্দোলন প্রশ্নের মুখে পড়বে।

ফারজানা নামে একজন অভিযোগ করে লিখেছেন- দুঃখজনক। আমার ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে বাড্ডায় গিয়েছিল। সেখানে আন্দোলনকারীরা গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র চায়। আমার ড্রাইভার সব কাগজ দেখালো। আন্দোলনকারীরা লাইসেন্স দেখতে চাইলে আমার ড্রাইভার তার লাইসেন্স নবায়ন করতে দিয়েছে বলে জানায় এবং নবায়ন করার কাগজও দেখায়। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সেটা না মেনে তার কাছে দেড় হাজার টাকা চায়। পরে এক হাজার টাকা নিয়ে তারা চলে যায়। এটা আশা করিনি। হতাশ হয়েছি।

সুমন নামে একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আরটিভি অনলাইনকে বলেন, অনেক শিক্ষা দেয়া হয়েছে এবার উচিৎ নিজের সম্মান থাকার আগে সরকারের প্রতি সম্মান দেখানো। কারণ ভালো মানুষরাও হয়রানির শিকার হচ্ছে।

জাফর নামে একজন বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একমত। কিন্তু বাচ্চারা কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলেছে। কিছু কিছু ছাত্ররা মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে। যা মোটেও কাম্য নয়। লাইসেন্স পরীক্ষায় বিপাকে পড়েছে লাইসেন্স থাকা মানুষও।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা তোমাদের কাজ মহৎ। আমরা চাই তোমাদের পরিবার বা আত্মীয় স্বজনদেরও গাড়ির লাইসেন্স বা কাগজ ঠিক করতে বাধ্য করো। পরিবার থেকে সবকিছু শুরু হোক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্যবসায়ী আরটিভি অনলাইনকে বলেন, শিক্ষার্থীরা ভালো কাজ করছে সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু আমাদের আগে নিজেদের পাল্টাতে হবে। শিক্ষার্থীসহ আমাদের সবার উচিৎ একযোগে কাজ করা। আমরা মানুষকে বলি কিন্তু নিজে করি না। কখনো কি আমার বাসচালককে জিজ্ঞেস করেছি তোমার লাইসেন্স আছে কিনা, যে বাস আর লেগুনা চালকের লাইসেন্স নেই বা যানবাহনের ফিটনেস নেই সেই যানবাহনে উঠা থেকে কি আমরা বিরত থাকি? পরিবর্তন হতে হবে নিজেকে।

এছাড়া আজ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর দায়ে ট্র্যাফিক সার্জেন্টের হাতে আন্দোলনকারীদেরই একজন আটক হওয়ায় ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন, শিক্ষার্থীদের কাজ থেকে এসব একেবারেই আশা করিনি। এটা তোমাদের আন্দোলন প্রশ্নবিদ্ধ করছে। 

এদিকে শিক্ষার্থীদের নয়টি দাবির মধ্যে এরই মধ্যে কয়েকটি বাস্তবায়নের শুধু উদ্যোগ নয়, প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আছে কোমলমতি এই ছোট ছেলে-মেয়েদের ওপর কোনও দমনমূলক পদক্ষেপ নেয়া যাবে না। এ বিষয়ে শেষ পর্যন্ত আমরা ধৈর্য ধরে যাব। আমরা আশা করছি দুই একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পুলিশ নানাভাবে অপদস্থ এবং হয়রানির শিকার হয়েও রাজনৈতিক অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ধৈর্য ধারণ করছে। চালকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী বিচারের আওতায় এনে তাদের বিচারকাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণও দেয়া হয়েছে।

এদিকে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, একটি পক্ষ আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার নাশকতা চালাতে তৎপর বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, একটি পক্ষ চাইছে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে যেন সরকার বেকায়দায় পড়ে। কিন্তু আমাদের পুলিশবাহিনী তা সফল হতে দেবে না। এ আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং নাশকতামূলক কিছু করতে স্কুল ড্রেস সরবরাহ করছে। অনেক বহিরাগত স্কুল পোশাকে ঢুকে পড়ছে। কিছু লোক আন্দোলনকারীদের রাস্তায় খাবার সরবরাহ করছে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে, অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন : 

এসএস/এসআর

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়