• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

লাইসেন্সধারীরাও বিরক্ত

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৪ আগস্ট ২০১৮, ১৮:২৮ | আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৮, ১৯:১৬
রাজধানীর কুর্মিটোলায় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় ২৯ জুলাই দুপুরে দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই ঘটনার পর দিন থেকে ৯ দফা দাবিতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে। তৃতীয় শ্রেণি থেকে শুরু করে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকাল-সন্ধ্যা রাজধানীর সড়কে বিক্ষোভ করছে। আর এতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে ঢাকা।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এ আন্দোলনের যৌক্তিকতা দিয়ে বারবার শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যেতে বলা হচ্ছে।

এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে আজ এ আন্দোলন সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। রাজপথে ট্র্যাফিকের সিগন্যাল বাঁশি মুখে তুলে নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। যে লাইসেন্স পরীক্ষা করার কথা ট্র্যাফিকের সেটা এখন করছে শিক্ষার্থীরা। তবে রাজধানীর নানা মোড়ে শিক্ষার্থীদের এই লাইসেন্স পরীক্ষায় বিপাকে পড়েছে লাইসেন্সবিহীন ও লাইসেন্স থাকা মানুষও।

ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী বেশ কয়েকজন আরটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে যৌক্তিক। সরকার যে কাজ ১০ বছরেও করতে পারিনি, তা এই ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা করে দেখিয়েছে। এজন্য তাদের ধন্যবাদ। তবে অনেক তো হয়েছে, সরকার তাদের দাবি মেনে নিয়েছে। এখন তাদের ঘরে ফেরা উচিত। কারণ লাইসেন্স পরীক্ষার নামে লাইসেন্সধারীরাও বিরক্ত হচ্ছে। লাইসেন্সধারীদের বারবার এই পরীক্ষার সামনে পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় ছোট-ছেলেমেয়ের কাছে অপমানের শিকার হতে হচ্ছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বনশ্রীর বাসিন্দা রহিম উদ্দিন (ছদ্মনাম) আরটিভি অনলাইনকে বলেন, কারওয়ান বাজার অফিস হওয়ায় প্রতিদিন বনশ্রী থেকে হাতিরঝিল হয়ে অফিস করি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে গত কয়েকদিন পড়েছি বিপাকে। তবু জাতীয় স্বার্থের কথা চিন্তা করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছি। সরকার যা পারিনি, তা ছোটরাই করে দেখিয়েছে বলে তাদের ধন্যবাদ জানাই।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে বিএনপি নেতা আমির খসরুর ফোনালাপ ভাইরাল
-------------------------------------------------------

“কিন্তু এবার তাদের ক্ষ্যান্ত হওয়া প্রয়োজন। কারণ সরকার তো তাদের সব দাবি পূরণ করছে। মিডিয়াতে শুনেছি তাদের ৯ দফা দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। এখন পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ অবস্থায় জনদুর্ভোগের বিষয়টিও এই ক্ষুদেদের মাথায় রাখতে হবে।”

রহিম উদ্দিন শনিবার অফিসে আসার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে এই প্রতিবেদককে বলেন, আজ শনিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছি। আমি সম্প্রতি  মোটরসাইকেল কিনেছি; এখন লার্নারস লাইসেন্স দিয়ে চলছি। কিন্তু কারওয়ান বাজার আসার পথে শিক্ষার্থীরা কয়েকদফা আমাকে আটকে দিয়েছে। তাদের লার্নারস দেখালেও বুঝতে চাইছে না। ছোট ছেলে-মেয়েদের কাছে বারবার প্রশ্নের উত্তর দেয়ায় বিষয়টিতে বিরক্ত মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি সরকারকেও বলবো এই ছেলেমেয়েদের দাবি যতদ্রুত সম্ভব কার্যকর করতে। কারণ আমরাও নিরাপদ সড়ক চাই। আমরা চাই না- আর যেন কোনও মায়ের বুক খালি হয়।

শুধু রহিম নন, তার মতো আরও কয়েকজন লাইসেন্সধারী প্রায় একই অভিজ্ঞতার কথা বলেন।

ফয়সাল আহমেদ নামের আরেক কর্মী জানান, লাইসেন্স আছে, তবু গাড়ি বের করা নিয়ে বিপাকে আছি। কারণ এ কয়দিনে অন্তত দৈনিক ১০ বার করে লাইসেন্স দেখাতে হচ্ছে।

‘লাইসেন্স না থাকাটা লজ্জার ব্যাপার। আমিও চাই সবাই গাড়ি চালানোর ব্যাপারে সতর্ক হোক।’

গত ২৯ জুলাই রাজধানী ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয়েছে আরও অন্তত ১৩ জন। এরপর থেকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। এসময় যানবাহন ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। পরদিন থেকে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর নানা মোড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, পিকআপ ভ্যান, ট্রাক ও মোটরসাইকেল চালকদের কাছে লাইসেন্স দেখতে চাওয়া শুরু করে।

বারবার বের করার বিড়ম্বনা এড়াতে অনেকেই লাইসেন্স ও কাগজপত্র গাড়ির সামনে রেখে দিচ্ছেন। তবে কিছু দূর পর পর লাইসেন্স দেখতে চাওয়ায় তারাও বিরক্ত প্রকাশ করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলছেন, আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যে উদ্দেশ্যে আন্দোলনে নেমেছেন তা অত্যন্ত মহৎ। শিক্ষার্থীদের জন্যই আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা হবে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক। তবে লাইসেন্স পরীক্ষা নিয়ে তারা যেটা করছে সেটা তাদের দায়িত্ব না।  

তিনি আরও বলেন, সরকার তাদের দাবি পূরণ করেছে। আমরা চাই তারা ঘরে ফিরে যাক। পুলিশের কাজ পুলিশকেই করতে দেন।

আরও পড়ুন : 

এসআর/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়