• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৩ আগস্ট ২০১৮, ১১:৫৩ | আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৮, ১৫:২৩
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে বাস ও যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য  এই বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাস মালিক কর্তৃপক্ষ। সারাদেশ থেকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাজশাহী: রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের সব সড়কপথে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। আজ শুক্রবার সকাল থেকে রাজশাহী থেকে কোনও বাস ছাড়েনি।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সারা দেশে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। তাদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বাস মালিকেরা। তবে বাসের নিরাপত্তার কারণে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর রহমান পিটার অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে উচ্ছৃঙ্খল একটি গোষ্ঠী ঢুকে পড়েছে। তারা বাসে ভাংচুর চালাচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে তারা বাস না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সন্ধ্যা থেকে বাস চলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বাস না চলার এমন সিদ্ধান্তের কথা অনেকেই জানতেন না। এদিকে টাঙ্গাইল থেকেও সব সড়কপথে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় রাজশাহীতে প্রবেশ করেনি কোনও বাস।  বাস চলাচল না করায় দুর্ভোগে পড়েন অনেক যাত্রী।

নওগাঁয় নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য রেলগেট কাউন্টারে এসেছিলেন সিদ্দিক মাহমুদ। বাস বন্ধের খবর শুনে বিস্মিত হন তিনি। তিনি জানান, জরুরি কাজে নওগাঁ সদরে নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য সকালে রওয়ানা হয়েছিলেন তিনি। কাউন্টারে এসে শোনেন বাস বন্ধ। অবশেষে সিএনজি করে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

এমন অনেক যাত্রীর ভোগান্তির চিত্র সকাল থেকেই বিভিন্ন কাউন্টারে গিয়ে দেখা মেলে। হঠাৎ বাস বন্ধের সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন যাত্রীরা।

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে জেলা মোটর মালিক গ্রুপ। শুক্রবার সকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণসহ আন্তঃজেলার সকল সড়কে পরিবহন চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় এ ঘোষণা দেয়া হয়।

জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক শঙ্খশুভ্র রায় জানান, নিরাপত্তার কারণে তারা শুক্রবার ভোর থেকে সব ধরনের পরিবহন চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কেন্দ্র থেকে কোনও সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবত থাকবে।

এদিকে রাতে হঠাৎ পরিবহন বন্ধের ঘোষণা দেয়ায় ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কার শেষ নেই তাদের মধ্যে। অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন।

ঢাকাগামী যাত্রী শিপন চৌধুরী জানান, পরিবার নিয়ে তিনি শুক্রবার ঢাকা যেতে চান। কিন্তু রাতে হঠাৎ পরিবহন ধর্মঘট ডাকায় মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন। বিভিন্ন স্থানে যোগযোগ করে ট্রেনের টিকিটও পাচ্ছেন না। সকালে টিকিট পাবেন কিনা এ নিয়েও চিন্তিত তিনি।

সিরাজগঞ্জ: যানবাহন ভাংচুরের প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে মালিক-শ্রমিক সংগঠন। আজ সকালে এ ধর্মঘট শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেজবাহুল ইসলাম লিটন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের যানবাহন ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কেউ রাস্তায় গাড়ি বের করবে না।

জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী জানান, দেশব্যাপী ছাত্র-আন্দোলনের নামে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ১৫টি ট্রাক, পাঁচটি বাস, তিনটি সিএনজি অটোরিকশা ও দুইটি মাইক্রোবাস ভাংচুর করা হয়েছে। এতে শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ কারণে আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য যানবাহন চালানো থেকে বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ময়মনসিংহ: নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আজও ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতি। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঢাকাগামী যাত্রীরা।

একই কারণে গতকাল দিনে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রাখে জেলা মোটর মালিক সমিতি। অবশ্য রাতে ঢাকামুখী বাস চলাচল করেছে। গেলো বুধবার রাতে জেলা মোটর মালিক সমিতির এক জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিনে বাস চলাচল বন্ধ রেখে রাতে চলাচল করছে।

শুক্রবার সকালে শহরের মাসকান্দায় আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকাগামী কোনও বাস ছাড়েনি। সব ধরনের যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। অবশ্য শহরের পাটগুদাম ব্রিজের মোড় ও টাঙ্গাইল বাস টার্মিনাল থেকে আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী সব ধরনের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: রাজধানী ঢাকায় জাবালে নূর বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থেকে দূর পাল্লার বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থে শুক্রবার সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহর থেকে দূরপাল্লার কোনও রুটে বাস ছেড়ে যায়নি। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

পরিবহন নেতারা জানিয়েছেন, বাস ও চালকদের নিরপত্তার স্বার্থে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ভাদুঘরস্থ পৌর বাস টার্মিনাল ও পৈরতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অভিমুখে কোনও বাস ছেড়ে যায়নি।

জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সেলিম মিয়া জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে বাস না চালানোর জন্য কেন্দ্রীয় ফেডারেশনের নির্দেশনা হয়েছে এবং চালকরাও বাস চালাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এর ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চালাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

মেহেরপুর: নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে ঢাকায় পরিবহন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ এনে ধর্মঘটে বসেছেন মেহেরপুরের পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা। শুক্রবার সকাল থেকে তারা ঢাকাসহ দূরপাল্লার সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রেখেছেন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা জানান, কয়েক দিন ধরে ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পরিবহন ভাংচুর করেছে। এতে শ্রমিক ও মালিকরা ব্যাপক ক্ষতিসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এজন্য ফেডারেশনের নির্দেশে মেহেরপুরে থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ধরনের দূরপাল্লার পরিবহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান তারা।

মেহেরপুর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম রসুল বলেন, ‘বর্তমানে সড়কে মালিক ও শ্রমিকদের কোনও নিরাপত্তা নেই। ঢাকায় আন্দোলনকারীরা ইচ্ছেমতো পরিবহন ভাংচুর ও তাতে আগুন দিচ্ছে। এর প্রতিবাদে ফেডারেশনের নির্দেশে শুক্রবার সকাল থেকে সব ধরনের পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে।

জয়পুরহাট: ঢাকায় পরিবহন ভাংচুরের প্রতিবাদে জয়পুরহাটে আজ শুক্রবার সকাল থেকে মালিক-শ্রমিকদের ডাকে শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা।

পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা জানান, ঢাকায় বিভিন্ন পরিবহনে ভাংচুর করছে শিক্ষার্থীরা। এতে শ্রমিক ও মালিকদের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ কারণে জয়পুরহাট থেকে দূরপাল্লা ও আঞ্চলিক বাস চলাচল বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন  করছে তারা।

এদিকে, কোনও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধ রাখায় দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। যাত্রীরা জানান, হঠাৎ পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘটে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে জানান, ঢাকায় বিভিন্ন পরিবহনে ভাংচুর করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ রেখেছি।

জয়পুরহাট জেলা বাস মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান বেদারুল ইসলাম বেদিন আরটিভি অনলাইনকে জানান, পরিবহনের নিরাত্তার জন্য  অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

সকালে টার্মিনালের বাস কাউন্টারে আসা একাধিক যাত্রী জানান, পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বাড়াবাড়ি করছেন। তাদের খামখেয়ালির জন্য সাধারণ যাত্রীদের কষ্ট করতে হচ্ছে। অনেকের জরুরি কাজ থাকার পরেও তারা জেলা শহরের বাইরে যেতে পারছেন না।

পটুয়াখালী: সড়কের যানবাহন চলাচলে নিরাপত্তা প্রদানের দাবিতে পটুয়াখালীতে বাস ধর্মঘট চলছে। কোনও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আজ শুক্রবার সকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে পটুয়াখালী বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতি। আকস্মিক এ বাস ধর্মঘটের ফলে বিপাকে পড়েছে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকসহ সাধারণ মানুষজন। 

পটুয়াখালী জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন মৃধা জানান, গত কয়েকদিনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন রুটের বাস চলাচলে যেভাবে বাধা দিচ্ছে এবং গাড়ি ভাংচুর করছে তাতে সড়কে বাস চলাচল করা সম্ভব নয়। এ কারণে শুক্রবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সড়কে শিক্ষার্থীদের চলমান এ আন্দোলন শেষ হলে আবারও বাস চলচল শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।

নোয়াখালী: সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাত থেকে পরিবহন ও পরিবহন শ্রমিকদের রক্ষার অজুহাতে নোয়াখালীতে দূর পাল্লার ও অভ্যন্তরীণ সকল পরিবহন চলাচল বন্ধ করে রেখেছে জেলা মালিক সমিতি ও পরিবহন সমিতি।এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

শুক্রবার সকালে জেলা শহরের সোনাপুর বাসস্ট্যান্ড, চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ড ও চৌমুহনী বাসস্ট্যান্ড থেকে থেকে দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ কোনও পরিবহন ছেড়ে যায়নি। ফলে বন্ধ রয়েছে নোয়াখালী-ঢাকা, নোয়াখালী-চট্টগ্রাম, নোয়াখালী-ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পরিবহন।

বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকা, চট্টগ্রামমুখী যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।একদিকে বাস কাউন্টারগুলো বন্ধ থাকা অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে দুর্ভোগ  আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

ফেনী: ফেনী থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা। শুক্রবার ভোর থেকে এ দুই রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

ফেনী আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজম চৌধুরী জানান, বাস চালকেরা ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় চলাচল করতে চাইছেন না। যাত্রীরাও নিরাপদবোধ করছেন না। এজন্য ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্টার লাইন পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাফর উদ্দিন জানান, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গাড়ি ভাংচুরের কারণে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সিদ্ধান্তের আলোকে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন চালকরা।

এনা পরিবহনের ফেনী জেলা ব্যবস্থাপক হাসান চৌধুরী বলেন, গত কয়েক দিনে ঢাকায় তাদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। ফলে ঢাকা থেকে ফেনীতে গাড়ি আসতে পারেনি। শুক্রবার ভোর থেকে ঢাকার উদ্দেশে কোনো গাড়ি ছাড়া হয়নি।

শহীদুল ইসলাম নামে ঢাকাগামী এক যাত্রী জানান, জরুরি কাজে তার ঢাকা যাওয়া প্রয়োজন। ভোর থেকে স্টার লাইন, এনা কাউন্টারে এসে বাস বন্ধ দেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহিপাল টার্মিনালে গিয়েও কোনও গাড়ি পাননি।

ফরিদপুর: নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো ফরিদপুর থেকে ঢাকার পথে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে মালিক সমিতি ও শ্রমিকরা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। তবে মাঝে মধ্যে দু-একটি বাস ঢাকামুখী ছেড়ে যাচ্ছে।

আজ শুক্রবার  ফরিদপুর পৌরবাস  টার্মিনালে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে বাস না পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন অনেকেই। কেউ কেউ বিকল্প পথে গন্তব্যে রওনা দিয়েছেন। কাউকে আবার বাস ছাড়ার আশায় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

যাত্রীরা বলছেন, সকাল থেকে বাসস্ট্যান্ডে এসে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষ করছি ঢাকা যাওয়ার কোনও উপায় পাচ্ছি না।এদিকে ফরিদপুর বাস কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতারা বলছেন, নিরাপত্তার কারণেই আমরা বাস ছাড়ছি না।

জেবি/ জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়