• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা কী?

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০১ আগস্ট ২০১৮, ১৬:১৩ | আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৮, ১৬:২৯
মা-বাবার বুক খালি করে সড়কে প্রায় প্রতিদিন ঝরছে তাজা প্রাণ। এমন একটি দিন নেই যে সংবাদমাধ্যমগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবর প্রকাশিত হচ্ছে না। আসলে দোষটি কার? কেন এতো দুর্ঘটনা? এটার জবাব সবাই দিতে পারলেও নেই কোনও প্রতিকার।

যার যায় সে বুঝে- সড়কে প্রাণ হারানো পরিবারের স্বজন এমন কথা বলে অভিযোগ করেন, কিছু মানুষের ভুল এবং দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। তবু ওইসব ভুল বা দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে না। সড়কে যাদের হাতে আমাদের প্রাণ থাকে তারা দেদারছে পাচ্ছে গাড়ি চালানোর লাইসেন্স, হোক তারা অনভিজ্ঞ। সব থেকে মজার ব্যাপার বেশির ভাগ চালকেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স।       

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য মতে, দেশে এই মুহূর্তে চলাচল করা বাস, মিনিবাস ও হিউম্যান হলারসহ মোট নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ৩১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৯। এর বিপরীতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালক আছে প্রায় ২০ লাখ। 

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বাকি সাড়ে ১১ লাখ গাড়ি চালায় শিশু, কিশোর এবং চালকদের হেল্পাররা। পরে তারা বিভিন্নভাবে অসৎ উপায়ে বের করছে লাইসেন্স।  

ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা

পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য বয়স ন্যূনতম ২০ বছর এবং অপেশাদার এর জন্য ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে। লাইসেন্স দেয়া হয় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) থেকে। প্রথমে বিআরটিএ থেকে বা তাদের ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র ও মেডিকেল সার্টিফিকেট ফরম নিতে হবে।

এরপর আবেদনপত্রটি নিজ হাতে এবং মেডিকেল সার্টিফিকেটটি একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তারের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্রটি তিন কপি স্ট্যাম্প ও এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, স্থায়ী ঠিকানা বা বর্তমান ঠিকানা (প্রয়োজনীয় প্রমাণাদিসহ) বিআরটিএ’র যে সার্কেলের আওতাভুক্ত সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে। সার্কেল অফিস কর্তৃপক্ষ তাকে একটি শিক্ষানবিস বা লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করবে যা দিয়ে আবেদনকারী ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন।

লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য নির্ধারিত ফি প্রথম ক্যাটাগরিতে ৩৪৫ টাকা ও দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে ৫১৮ টাকা বিআরটিএ’র নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দিতে হবে। 

এরপর বিআরটিএ’র দেয়া সময় অনুযায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এক্ষেত্রে তিন ধরনের পরীক্ষা নেয়া হয়।

প্রথমত, জিগজ্যাগ টেস্ট, দ্বিতীয়ত র‌্যাম্প টেস্ট ও তৃতীয়ত রোড টেস্ট দিতে হবে। তবে ভারী যানবাহন যেমন ট্রাক, লরি এসবের জন্য লাইসেন্স পেতে হলে অবশ্যই একটি হালকা মোটরযানের লাইসেন্স থাকতে হবে এবং তিন বছর পার না হলে ভারী যানবাহনের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যাবে না।

লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আবার একটি নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি প্রদান করে স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে। গ্রাহকের বায়োমেট্রিক তথ্য  (ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙ্গুলের ছাপ) গ্রহণ করে স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা হয়। স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্টিং সম্পন্ন হলে গ্রাহককে এসএমএস এর মাধ্যমে তা গ্রহণের বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়।

স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন, রেজিস্টার্ড ডাক্তার এর মাধ্যমে  মেডিকেল সার্টিফিকেট, ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা জন্ম সনদ বা পাসপোর্ট এর সত্যায়িত ফটোকপি, নির্ধারিত ফি (পেশাদার ১৬৭৯ টাকা ও অপেশাদার ২৫৪২ টাকা) বিআরটিএ’র নির্ধারিত ব্যাংকে জমাদানের রশিদ, পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন ও সদ্য তোলা ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি লাগবে।

লাইসেন্স ১০ বছর পরপর নবায়ন করাতে হয়। তবে পেশাদার লাইসেন্স পাঁচ বছর পরপরই নবায়ন করাতে হয়।

এসএস /সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়