• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

পাঁচ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ছয়

আরটিভি অনলাইন প্রতিনিধি
|  ১১ জুলাই ২০১৮, ০৯:২২ | আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৮, ১২:৫০
ঢাকা, কুষ্টিয়া, লক্ষ্মীপুর, যশোর ও নাটোর জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছয়জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর ও যশোরে দুই ডাকাত নিহত হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা, কুষ্টিয়া ও নাটোরে নিহত হয়েছেন চার মাদক ব্যবসায়ী।

আরটিভি অনলাইনের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ঢাকা: ঢাকার কেরাণীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. নুরা ওরফে নুরু (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

বুধবার ভোরে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ডায়মন্ড মেলামাইন কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, নিহত নুরু একজন মাদক ব্যবসায়ী।

কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন- ঘটনাস্থল থেকে নুরুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কুষ্টিয়া: জেলার মিরপুর উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ফুটু ওরফে মোন্না (৩৫) ও রাসেল আহম্মেদ (৩০) নামের দুই যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোর রাতে উপজেলার কূর্শা ইউনিয়নের আনন্দবাজার বালুচর সংলগ্ন জোয়ার্দ্দার ইটভাটার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব জানায়, নিহত ফুটু ওরফে মোন্না মিরপুর উপজেলার রাজারহাট মোড় এলাকার মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে। রাসেল আহম্মেদ একই এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে।

র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মোহাইমিনুল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ভোররাতে র‌্যাব ওই এলাকায় অভিযান চালায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য কর গুলি ছোড়ে। জবাবে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে দুইজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : ঘরে বসেই মামলার অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবো: আইনমন্ত্রী
 -------------------------------------------------------

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুই ব্যক্তি তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী।

তিনি দাবি করেন, বন্দুকযুদ্ধে আহত দুই র‌্যাব সদস্যকেও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশি পিস্তল, ১২ রাউন্ড গুলি, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর: জেলায় রায়পুরে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টাকালে পুলিশ ও ডাকাত দলের মধ্যে গোলাগুলিতে সুরাইয়া সোহেল নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। এসময় এসআই মোতাহের হোসেন ও গোলাম মোস্তফা নামে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।

বুধবার ভোররাতে রায়পুর উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের সিংহের পোল এলাকায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, নয় রাউন্ড কার্তুজ ও ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

নিহত সোহেল রায়পুরের উত্তর দেনায়েতপুর গ্রামের মৃত মুনাফের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকের ছয়টি মামলাসহ ২২টি মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। নিহতের মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজিজুর রহমান মিয়া জানান, লক্ষ্মীপুর সদরের ঝুমুর সিনেমা হল এলাকা থেকে ২২ মামলার আসামি সুরাইয়া সোহেলকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আটক করা হয়। পরে রাতে তাকে নিয়ে অভিযানে গেলে তার সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নিতে গুলি চালায়, পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এসময় তাদের গুলিতে সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গোলাগুলিতে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন।

যশোর: যশোরের মণিরামপুরে দু’দল ডাকাতের বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার ভোরে যশোর-রাজগঞ্জ সড়কের কোদলাপাড়া জামতলা এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। তবে নিহত যুবকের (৩২) নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

যশোরের মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকাররম হোসেন জানান, খেদাপাড়া ফাঁড়ি পুলিশ বুধবার ভোরে যশোর-রাজগঞ্জ সড়কের কোদলাপাড়া জামতলা এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে গুলিবিদ্ধ একটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুদল ডাকাতের বন্দুকযুদ্ধে ওই যুবক নিহত হয়েছেন। তবে তার নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নাটোর: নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ওসমান গণি (৩৮) নামে ৫ মামলার এক আসামি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার বাহিমালি এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহত ওসমান উপজেলার গুরুমশইল গামের মৃত মনসুর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন র‌্যাবের দুই সদস্য।

র‌্যাবের দাবি, নিহত ওসমান গণি মাদক বিক্রেতা। তার বিরুদ্ধে নাটোর জেলার বিভিন্ন থানায় মাদক ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৭.৬২ বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ভর্তি ম্যাগজিন, পিস্তলের গুলির খালি খোসা ও বাদামি রঙের ৪১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৫ এর নাটোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর শিবলী মোস্তফা জানান, রাতে বাহিমালি মোড়ে কিছু লোকের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে র‌্যাবের একটি টহল দল সেখানে যায়। একপর্যায়ে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হলে তারা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এসময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থলে অজ্ঞাতনামা একজনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বাকিরা পালিয়ে যান।

আহত যুবককে উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় র‌্যাবের দুই সদস্য সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মনজুর আহমেদ ও কনস্টেবল এনামুল হক আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

 

আরও পড়ুন :

জেবি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়