• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

না ফেরার দেশে ভাষাসৈনিক হালিমা খাতুন

পাভেল রহমান, আরটিভি অনলাইন
|  ০৩ জুলাই ২০১৮, ১৬:২৯ | আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৮, ১৬:৩৬
ছবি: সংগৃহীত
চিরদিনের জন্য না ফেরার দেশে চলে গেলেন ভাষাসৈনিক, অধ্যাপক হালিমা খাতুন। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

হাসপাতালের কমিউনিকেশন ও মার্কেটিং বিভাগের প্রধান সাগুফা আনোয়ার জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হালিমা খাতুনের ভাতিজি অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা আরটিভি অনলাইনকে বলেন, “মৃতদেহ কোথায় দাফন করা হবে, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। লাবণী (আবৃত্তিশিল্পী প্রজ্ঞা লাবণী, হালিমা খাতুনের মেয়ে) আমাকে জানিয়েছে, কাল সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মরদেহ নেওয়া হতে পারে। সন্ধ্যায় সংবাদ মাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে।”

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, “ভাষাসৈনিক হালিমা খাতুনের মরদেহ শেষ শ্রদ্ধা জানাবার জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনার ব্যাপারে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কয়টায় আনা হবে এবং কোথায় দাফন করা হবে তার বিস্তারিত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সন্ধ্যার পর বিস্তারিত জানাতে পারবো।”

শারীরিক অসুস্থতার জন্য গত বৃহস্পতিবার তাকে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে শনিবার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আজ মঙ্গলবার ৮৬ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

হালিমা খাতুন ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরের আমতলায় সমাবেশে তিনি ছাত্রীদের জড়ো করায় ভূমিকা পালন করেন। মুসলিম গার্লস স্কুল ও বাংলা বাজার গার্লস স্কুলের ছাত্রীদের আমতলায় নিয়ে এসেছিলেন তিনি।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৪৪ ধারা ভেঙে প্রথম বের হয় মেয়েদের দল। তার সদস্য থাকে ৪ জন- জুলেখা, নূরী, সেতারার সঙ্গে সারিতে ছিলেন হালিমা খাতুন।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন তিনি। এখান থেকে অধ্যাপক হিসেবে ১৯৯৭ সালে অবসর নেন। এর আগে ১৯৫৩ সালে খুলনা করোনেশন স্কুল এবং আরকে গার্লস কলেজে শিক্ষকতার মধ্যদিয়ে তার কর্মজীবনের সূচনা হয়।

ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তাকে ভাষা সৈনিক সম্মাননা প্রদান করে। হালিমা খাতুনের একমাত্র মেয়ে দেশের অন্যতম আবৃত্তিশিল্পী প্রজ্ঞা লাবণী।

হালিমা খাতুন ১৯৩৩ সালের ২৫ শে অগাস্ট বাগেরহাট জেলার বাদেকাড়াপাড়া গ্রামে জন্ম নেন। তার বাবা মৌলভী আবদুর রহিম শেখ এবং মা দৌলতুন নেসা।

পিআর/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়