• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

তিন মাস জ্বলে না ফ্লাইওভারের সিগন্যাল বাতি (ভিডিও)

মিথুন চৌধুরী
|  ০২ জুলাই ২০১৮, ১৫:১৩ | আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৮, ১৭:৩১
রাজধানীর যানজট নিরসনে তৈরি করা মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের ওপর মৌচাক পয়েন্টে সিগন্যাল-ব্যবস্থা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ নকশার কারণে দেয়া হয়েছিল সিগন্যাল ব্যবস্থা। কিন্তু এ সিগন্যাল ব্যবস্থা মৃত্যুপুরীতে রূপ নিয়েছে। কারণ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে ১১টি সিগন্যাল বাতি বসেছে; কিন্তু এর মধ্যে মালিবাগ মোড়ের ছয়টি ও মৌচাক মোড়ের পাঁচটি বাতির কোনোটি জ্বলছে না।

রোববার সরেজমিনে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

ফ্লাইওভারের একটি অংশ রামপুরা সড়ক থেকে মৌচাক হয়ে শান্তিনগর গিয়ে শেষ হয়েছে। আরেকটি অংশ বাংলামোটর থেকে মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগ হয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে গিয়ে শেষ হয়। মালিবাগ মোড়ে রয়েছে একটি সিগন্যাল। আবার বাংলামোটর থেকে শান্তিনগর বা মালিবাগ যেতে হলে মৌচাক পয়েন্ট অতিক্রম করতে হবে যানবাহনকে। ফ্লাইওভারে মালিবাগ থেকে রামপুরাগামী যানবাহনকেও মৌচাক মোড় পার হতে হবে। এতে মৌচাকে বিদ্যমান সড়কের তিন রাস্তার মোড় পড়েছে। যাতে রয়েছে আরেকটি সিগন্যাল। কিন্তু এ সিগন্যালগুলোতে কোনও বাতি না জ্বলায় রীতিমতো দুর্ঘটনার দায় মাথায় নিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। সিগন্যাল বাতি না জ্বলায় যানবাহনের যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করতে দেখা যায়।

সরেজমিনে সিগন্যাল পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী থাকলেও তাদের অলস সময় পার করতে দেখা যায়। আরটিভি অনলাইনের ক্যামেরা দেখে অলস সময় পার করা নিরাপত্তাকর্মীরা ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা পালন শুরু করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা আরটিভি অনলাইনকে বলেন, তিন-চার মাস ধরে সিগন্যাল বাতি জ্বলে না। তাই যানবাহনগুলো নিজেদের খেয়াল খুশিমতো চলাচল করে। আর যানবাহন চালকরা আমাদের গালমন্দ করেন। বিশেষ করে রাতে যানবাহনের গতি আরও কমে যায়। কারণ বেশিরভাগ ল্যাম্পপোস্টের বাতি জ্বলে না। নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে পরিবহনগুলো চলাচল করে। যেকোনও মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম-সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব আরটিভি অনলাইনকে বলেন- ফ্লাইওভার, ওভারব্রিজ কিংবা আন্ডারপাস যে কোনও স্থান হোক না কেন, এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্পে রক্ষণাবেক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যে কোনও ধরনের প্রকল্প হাতে নিলে প্রকল্প খরচের সাথে ৫ থেকে ৮ শতাংশ ব্যয় ধরা হয় রক্ষণাবেক্ষণ কাজে; যা প্রতিবছর দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ছাড়া প্রকল্প ধরা হয়। পরে প্রকল্প শেষে স্থানীয় সরকার কিংবা সিটি করপোরেশনের কাছে দেয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় সরকার কিংবা সিটি করপোরেশনকে এ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাড়তি খরচ দেয়া হয় না। অভিভাবকহীন থাকে প্রকল্পগুলো। এদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা মন্ত্রীদের কাছে দাবি করেছিলাম, যাতে তারা পরিকল্পনা কমিশন ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দেয়, প্রতিটি বড় প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ যোগ করে যেন প্রকল্প প্রণয়ন করেন।

এ বিষয়ে মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক সুশান্ত কুমার পাল আরটিভি অনলাইনকে বলেন, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারটি উদ্বোধনের পর প্রায়ই বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়। ফলে সিগন্যাল বাতি ও ল্যাম্পপোস্টের বাতি অকার্যকর হয়ে পড়ে। এ পর্যন্ত চার বার তার চুরি হয়েছে। প্রথম দুইবার তার চুরির পরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তারাই দুইবার তার লাগিয়েছে তাদের খরচে। এখন আবার তার চুরির পর কে টাকা খরচ করে তার লাগাবে, এ জন্য টানাপোড়েনের কারণেই তার লাগানো হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ফ্লাইওভারটি দেখভালের দায়িত্ব সংকটের কারণে এমনটি হচ্ছে। মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারটির বাংলামোটর, মগবাজার, তেজগাঁও, মালিবাগ রেলগেট, রামপুরা অংশ পড়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায়। আর বাকি অংশ মৌচাক, মালিবাগ মোড়, রাজারবাগ, শান্তিনগর অংশ পড়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায়। ঢাকার দক্ষিণ ও উত্তর দুই সিটির এলাকা অনুসারে দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হবে শিগগিরই। এরপর তারাই এসব বিষয়ে নজরদারি করবে।

উল্লেখ্য, চার লেনের এ উড়ালসড়কটি প্রায় ৮ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। এ ফ্লাইওভারটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। গত বছরের ২৬ অক্টোবর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উড়াল সড়কটির উদ্বোধন করে যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেন।

এমসি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়