• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

তার চুরির কারণে অন্ধকারে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার (ভিডিও)

মিথুন চৌধুরী, আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২৮ জুন ২০১৮, ১৬:৪৮ | আপডেট : ২৯ জুন ২০১৮, ১০:৪৩
২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর পুরোপুরি খুলে দেয়া হয় ‎৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রাজধানীর মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার। কিন্তু ফ্লাইওভার উদ্বোধনের বছর গড়াতে না গড়াতেই নিভে গেছে ফ্লাইওভারের লাইটপোস্টের বেশির ভাগ বাতি। দীর্ঘদিন ধরে জ্বলছে না ফ্লাইওভারের লাইটপোস্টের বাতি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত তার চুরির কারণে নিভে গেছে ফ্লাইওভারের বেশির ভাগ বাতি।

এ বিষয়ে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক ও এলজিইডির তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুশান্ত কুমার পাল আরটিভি অনলাইনকে বলেন, মগবাজার-মৌচাক উড়াল সেতুটির উদ্বোধনের পর প্রায়ই বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়।  এ যাবত চারবার তার চুরি হয়েছে। প্রথম দুইবার তার চুরির পরই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেই দুইবার তার লাগানো হয়েছে। এখন আবার তার চুরির পর কে টাকা খরচ করবে এ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে।

তিনি বলেন, আলোচনা চলছে ফ্লাইওভারটি দুই সিটি করপোরেশনকে দেখভালের দ্বায়িত্ব দেয়ার। শিগগির সীমানা অনুসারে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে ফ্লাইওভারটি হস্তান্তর করা হবে দেখভালের জন্য। তখন তারা নজরদারি বাড়ালে এ সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।

এ বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমাদের টিম প্রতিনিয়ত টহল দিয়ে যাচ্ছে ফ্লাইওভারের ওপরে ও নিচে। যাতে করে তার চুরি, ছিনতাই কিংবা কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। ফ্লাইওভারের ওপরে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সহজে বুঝা যাবে এর সাথে জড়িত কারা।

বুধবার রাতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারে ব্যবহৃত বাতিগুলো অনেকদিন ধরে অকেজো। ফলে রাতের বেলা অন্ধকার থাকে ফ্লাইওভারটি। রাতের অন্ধকার দূর করতে অকেজো হয়ে পড়া বাতিগুলো ঠিক করে সচল রাখতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। সন্ধ্যা নামলে ফ্লাইওভার জুড়ে ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। ফলে  আধুনিক যোগাযোগের নিয়ামক এ ফ্লাইওভার দিয়ে চলতে রাতে গাড়ির হেডলাইটের আলোই একমাত্র ভরসা। আর উড়াল সেতুতে বাতি না থাকায় দূর্ঘটনার আশংকা করছেন যানবাহন চালকরা। শুধু তা নয় আলো না থাকায় ফ্লাইওভারে ছিন্নমূল, ভবঘুরে আর নেশাখোরদের বিচরণ ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এমনকি গভীর রাতে ওই ফ্লাইওভারে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে।

ফ্লাইওভারটি ঘুরে আরও দেখা যায়, কয়েকটি লুপে আলো জ্বললেও বেশির ভাগ লুপে জ্বলে না ল্যাম্পপোস্টের বাতি। লুপ বেয়ে ফ্লাইওভারে উঠলেই চোখে পড়বে একপাশের কয়েকটি ল্যাম্পপোস্ট লম্বা-লম্বি দাঁড়িয়ে আছে যা দেখে বোঝার উপায় নেই এটি ল্যাম্পপোস্ট না অন্য কিছু। কিছু দূর গেলে চোখে পড়ে ফ্লাইওভারের ডান পাশে এমন পোস্টের সংখ্যা কম নয়, বরং সারি সারি। বাতি না থাকায় ফ্লাইওভারের এ পাশটা অন্ধকারে ঢাকা পড়েছে। রাতের গাড়িগুলো তাই সতর্কভাবে হেডলাইটের অলোয় পথ চলছে ঝুঁকি নিয়ে।

সাত রাস্তা থেকে শুরু মগবাজার ফ্লাইওভারের দুই পাশেই বাতি আছে কিন্তু জ্বলে না। পুরোটা ফ্লাইওভারেই একই অবস্থা। আবার এই ফ্লাইওভারে উল্টো ঘটনাও রয়েছে। ইস্কাটন থেকে মৌচাক পর্যন্ত ফ্লাইওভারের পুরোটাই অন্ধকার। এই ফ্লাইওভারে বাতি আছে কিন্তু একটি বাতিও জ্বলে না। সোনারগাঁও হোটেলের দিকে নামার র‌্যাম্পেও বাতি দেখা গেলেও বাতি জ্বলতে দেখা যায়নি। ফলে এসব এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে গুপটি মেরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তরুণ-তরুণীদের।

নিয়মিত চলাচলকারীরা জানান, ফ্লাইওভার চালুর সময় বাতিগুলো সচল ছিল। কিন্তু পরে সঠিক নজরদারির অভাবে ক্রমান্বয়ে সবগুলো বাতিই অকেজো হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক মাস পর বাতির স্ট্যান্ডগুলোও ফ্লাইওভারে পাওয়া যাবে না। এজন্য সঠিক নজরদারির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

আট কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের এ ফ্লাইওভারে ১৫ স্থানে উঠা-নামার ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো হলো তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, এফডিসি, মগবাজার, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, বাংলামটর, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং শান্তিনগর মোড়।

এটি রিখটার স্কেলে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে। প্রতিটি পিলার পাইলের গভীরতা প্রায় ৪০ মিটার।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১১ সালে যখন এই ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল, তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এরপর কয়েক ধাপে ব্যয় বেড়ে তা ১ হাজার ১৩৫ কোটি টাকায় পৌঁছায়।

এমসি/এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়