‘গরিবের ঈদ-পূজো কী?’ (ভিডিও)

প্রকাশ | ১৫ জুন ২০১৮, ১৫:০৩ | আপডেট: ১৫ জুন ২০১৮, ১৫:২৩

সিয়াম সারোয়ার জামিল, আরটিভি অনলাইন

ফার্মগেটে মৃত্তিকা ইনস্টিটিউট পার হয়ে এগোতেই কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের গেটেই মুচির দোকানটা। দেখা মিললো ষাটোর্ধ্ব নারায়ণের সঙ্গে। গালে হাত, মাথায় ছাতাও নেই। জীর্ণ পোশাকটা কোনোরকমে শীর্ণকায় শরীরে আটকে রেখেছেন যেন। ঘর্মাক্ত মুখে তাকিয়ে ছিলেন কাস্টমারের আশায়। জুতো সেলাই, রং করা থেকে শুরু করে নতুন জুতোও বানাতে পারেন তিনি।  

কিন্তু ঈদের ছুটিতে পুরো এলাকায় খাঁ খাঁ অবস্থা। আশাপাশে বেশ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও এখন সব ছুটি। কাস্টমারের আশায় বসে ছিলেন তিনি। এগিয়ে যেতেই খুশি হলেন যেন। জিজ্ঞেস করলেন, 'জুতো সেলাই করবেন নাকি রঙ?' নিজের জুতোটা এগিয়ে দিতেই কাজে নেমে পড়লেন। মনোযোগ দিয়ে কাজ করছিলেন। এ সময় কথা হলো তার সঙ্গে।

জানালেন, ৫ দশকের বেশি সময় ধরে মুচির কাজ করছেন এখানে। আগে একটু পাশে মৃত্তিকা ইনস্টিটিউটের সামনে বসতেন। থাকেন ভাসানটেকের বস্তিতে। আদিবাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে। তবে কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে থেকে গিয়েছেন। আর যাননি। এখানেই গড়েছেন বাস। চার মেয়ের জন্ম দিয়েছেন। 

এই জুতো সেলাই করেই চার মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। চল্লিশ বছর ধরে সংসার চালাচ্ছেন।  এখন ঘরে আছে শুধু স্ত্রী। ঈদে বাসায় মেয়েরা আসে না আর। তবে নাতিরা আসে। ওদের সঙ্গে একটু আনন্দও হয়। জানালেন, শরীর ভেঙে পড়লেও পেটের খাবার জোগাড় করতে কাজ করতেই হয়। বিকল্প কে‌উ নেই, যিনি আয় করে দুজনের সংসারটা চালাতে পারেন।

ঈদ-পূজোতেও কাজ করেন- জিজ্ঞস করতেই হাসলেন, 'গরিবের ঈদ-পূজো কী? কাজে গেলে খেতে পাব। না গেলে না খেয়ে থাকতে হবে। পোশাক আশাক কেনার তো সামর্থ্য নাই। খেয়ে পরে বাঁচাটাই বড় কথা।'

জুতোর কাজ শেষ। খুশি হয়ে অতিরিক্ত পয়সা দিতে চাইলেও নিলেন না। 'যা প্রাপ্য তাই দিবেন। অতিরিক্ত নেবার কিছু নেই' বলেই হাসি দিলেন নারায়ণ। সেই হাসিটা যেন নির্মল নিষ্পাপ। পরক্ষণেই হাত নেড়ে বিদায় দিলেন তিনি। খাঁ খাঁ করা ফার্মগেটে একাই বসে রইলেন নতুন কাস্টমারের আশায়। 

এসজে/সি