• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

ঈদযাত্রায় ভোগাতে পারে যে সব পথ

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০২ জুন ২০১৮, ১২:৩৩ | আপডেট : ০২ জুন ২০১৮, ১৩:৫৯
ঈদ কড়া নাড়ছে। তবে এবার বর্ষা মৌসুমে ঈদ। দেশের অনেক রাস্তা ভাঙ্গাচোরা, অনেক স্থানে উঠে গেছে কার্পেট। দৃশ্যমান হয় পড়েছে ইটের খোয়া। মহাসড়কের সেসব স্থানে খানাখন্দ রয়েছে, সেগুলো মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। তবে তা দেখে মনে হচ্ছে জোড়াতালির মেরামত। কিন্তু সড়ক-মহাসড়কের বেহাল দশা ও নির্মাণাধীন সেতু থাকায় ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের চার লেনে উন্নীতর কাজ চলমান থাকায় প্রায়ই যানজট হচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে প্রায় সারাবছরই দুর্ভোগ থাকে। ঈদেও এ ঘাট দিয়ে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সবচেয়ে দুর্ভোগ পোহাবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যাত্রীরা। মহাসড়কের প্রবেশপথ যানজটমুক্ত করতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চার লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ চলছে। এখন ঢাকা থেকে রূপগঞ্জ পার হতে সময় লাগছে তিন থেকে চার ঘণ্টা। ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজের কারণে গাউছিয়া মার্কেট থেকে ভুলতা মোড় পর্যন্ত মহাসড়ক সরু হয়ে গেছে। নির্মাণ এলাকার পর সড়ক যতটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, তাতে স্বাভাবিক গতিতে যান চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়েছে। গত ঈদেও এখানে দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। এবারের ঈদেও একই আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলেও এ মহাসড়কের সুফল আটকে গেছে কাঁচপুর, মেঘনা, গোমতী সেতু ও টোলঘরে ও ফেনী ফতেহপুরের নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার। সড়ক চার লেনে উন্নীত হলেও সেতুগুলো আগের মতোই দুই লেনের। গত ঈদে এ চার সেতুতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন আটকে ছিল।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পটিয়া, শান্তিরহাট, দোহাজারী, কেরানীহাট, চকরিয়া মেইন রোড এলাকায় সরু রাস্তায় তীব্র যানজটের পাশাপাশি চকরিয়া থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক এ সড়কে মানুষ যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হবে।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক রাজধানী ঢাকার সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার সড়ক যোগাযোগের মাধ্যম। গোলড়া বাসস্ট্যান্ড ও এখানে সবজির পাইকারি বাজার, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, বানিয়াজুড়ি বাসস্ট্যান্ড, উথুলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানবাহন এলোপাথাড়ি রাখায় যানবাহনের জট লেগে যায়। এ মহাসড়কে সাভারের আমিনবাজার, হেমায়েতপুর, উলাইল, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড, নবীনগর, নয়ারহাট, কালমাপুর এবং নবীনগর-চন্দ্রার দীর্ঘ ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। চার লেনের নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে ডিইপিজেড থেকে ভলিভদ্র বাজার পর্যন্ত ৬০০ মিটার সংস্কার হলেও প্রায় ৩০০ মিটার অংশের কাজ শেষ হয়নি। নবীনগর-চন্দ্রা ও টঙ্গী-আশুলিয়া-ডিইপিজেড মহাসড়কের সংযোগস্থল বাইপাইল ত্রিমোড়ে যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক থ্রি হুইলার বেড়ে যাওয়ায় যানজট হচ্ছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেনে উন্নতকরণের কাজ শেষ হলেও সুফল আটকে দিয়েছে অবৈধ পার্কিং ও বাজার। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহের ভালুকা পর্যন্ত দুই পাশে শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। মাঝে গাজীপুরের শ্রীপুরের শালবন পথ দিয়ে পুরো মহাসড়কেই গড়ে উঠেছে অবৈধ পার্কিং। শিল্পকারখানার বড় বড় কাভার্ড ভ্যান মহাসড়কেই পার্ক করা হয়। এ কারণে মহাসড়কে কাঙ্ক্ষিত গতিতে চলতে পারে না যানবাহন। ময়মনসিংহের সিডস্টোর থেকে গাজীপুরের জৈনা পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার পথে আটটি বাজার গড়ে উঠেছে। আগের ঈদ যাত্রায়ও এসব বাজার হয়ে দাড়ায় যানজটের কারণ।

রাজধানী ঢাকা এবং সাভার ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের মানুষ টঙ্গী হয়ে নরসিংদীর পাঁচদোনা দিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ওঠেন। কিন্তু টঙ্গী-পাঁচদোনা সড়কটি এখনো চলাচলের প্রায় অনুপযোগী। এর বাইরে ভৈরব দুর্জয় মোড়ে যানবাহনের বিশৃঙ্খল চলাচল ও বিভিন্ন স্থানের খানাখন্দ ঈদযাত্রীর ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক হয়ে ২৩ জেলার প্রায় আট হাজার যানবাহন চলাচল করে। তবে ঈদ মৌসুমে যান চলাচল প্রায় চার গুণ বেড়ে যায়। গত ঈদুল আজহার আগের দিন বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর দিয়ে ৩১ হাজারের বেশি গাড়ি পারাপার হয়, যা এই সেতু চালুর পর থেকে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এখন চন্দ্রা মোড় থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার পথে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত যাচ্ছে যানজটে। চান্দুরা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত অংশে চার লেনের কাজ চলছে।

পাবনা-নগরবাড়ি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন ও পাথর উঠে গেছে। সিরাজগঞ্জের চান্দাইকোনা থেকে গাইবান্ধার রহবল পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটারের ২৫ কিলোমিটার অংশ খানাখন্দ।

বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের নন্দী গ্রামের জামাদারপুকুর থেকে গাড়ীদহ সড়কের বিভিন্ন স্থানে গভীর খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের পৌরসভা এলাকার এবং জেলার বেশির ভাগ আন্ত জেলা সড়কগুলো খানাখন্দে ভর্তি হয়ে ওঠায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বরিশাল-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের শেখ জামাল সেতু থেকে কলাপাড়ার পাখিমারা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার অত্যন্ত নাজুক। কোথাও কার্পেটিং উঠে গেছে। কোথাও ইট-খোয়া সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বরিশাল জোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কটির এ দশা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়বে কুয়াকাটা মুখী মানুষ।

এমসি/ এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়