• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

ফাঁকা হতে শুরু করেছে ঢাকা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
ঢাকা
|  ০১ জুলাই ২০১৬, ১১:৪৭ | আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৬:১২
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৯ দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে শুক্রবার থেকে। অন্যান্য বছর ঈদের দু’একদিন স্টেশনগুলোতে থাকে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। এবার দীর্ঘ ছুটির কারণে বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার সকাল থেকেই দেখা যায় ঘরমুখো মানুষের ভিড়।

শুক্রবার সকালে কমলাপুর রেল স্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, রোজা ও তীব্র গরম উপেক্ষা করে ট্রেনের অপেক্ষায় প্লাটফর্মে বসে আছেন অনেক যাত্রী। সবার হাতে ব্যাগ, কারো সঙ্গে স্ত্রী-সন্তান, বন্ধু-বান্ধব, প্রিয়জন। কেউ আবার একাএকাই বসে আছেন স্টেশনে। তাছাড়া একজন আরেকজনকে ঠেলে কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের দিকে ছুটাছুটি, লাফিয়ে ট্রেনে উঠা অথবা ট্রেনের জন্য অপেক্ষার দৃশ্য কমলাপুর স্টেশন জুড়েই। ট্রেনের আজকের টিকিটের জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অগ্রিম টিকিট কাটতে হয়েছিল গত ২২ জুন।   

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্বরত একাধিক কর্মকর্তা জানান, সরকারি চাকরিজীবীরা টানা ৯ দিনের দীর্ঘ ছুটি পেয়েছেন, পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে চাকরিজীবীদের মধ্যেও কেউ কেউ এ সুবিধা পেয়েছেন। ফলে শুক্রবার থেকেই অধিকাংশ মানুষ রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন। যে কারণে সকাল থেকে স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে ৪ জুলাই ছুটি ঘোষণা করায় সরকারি চাকরিজীবীদের এবার ঈদের মোট ছুটি ৯ দিন। যা শুরু হয়েছে শুক্রবার থেকে।

রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠার অপেক্ষায় স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে অপেক্ষায় আছেন সরকারি চাকরিজীবী আহমেদ এজাজ। তিনি বললেন, লম্বা ছুটি পেয়ে এবার অনেক আগেই বাড়ি ফিরছি। ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কাটা থেকে শুরু হয়েছে বিড়ম্বনা। পথে পথে শত বিড়ম্বনা উপেক্ষা করেই নাড়ির টানে বাড়ির ফিরতে হয়। তবে আপনজনের সঙ্গে দেখা হলে এ কষ্ট আর মনে থাকে না।

কমলাপুর স্টেশনের ব্যবস্থাপক সিতাংশু চক্রবর্তী বললেন, যাত্রী ভোগান্তি এড়াতে আমরা ট্রেনের সময়সূচি সার্বিকভাবে ঠিক রাখার চেষ্টা করছি। যাত্রীরা যেভাবে সারিবদ্ধ হয়ে অগ্রিম টিকিট কেটে সবাই পেয়েছেন ঠিক তেমন সুশৃঙ্খলভাবে থাকলে সবাই ট্রেন উঠতে পারবেন। সেই সঙ্গে আমরা যাত্রীসেবা দিতে পারবো।

এবার ছুটি বেশি হওয়ায় আগে থেকেই যাত্রী বেশি হচ্ছে এবং শেষের দিকে আরো কিছুটা চাপ থাকবে জানিয়ে তিনি বললেন, আশা করছি যাত্রীদের সব ধরনের ভোগান্তি এড়িয়ে যাত্রীসেবা দিতে পারবো। সব ট্রেন মিলে প্রতিদিন এখন ১৩২টি ট্রেন আস-যাওয়া করছে। ফলে যাত্রীদের কোনো সমস্যা হবে না।

কেউ যেন ট্রেনের ইঞ্জিন বা ছাদে না উঠেন সে বিষয়ে যাত্রীদের প্রতি অনুরোধও জানান তিনি।

এদিকে কমলাপুর রেলওয়ে থানার এসআই শহিদুল ইসলাম বললেন, রেলপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি আছে আমাদের। রেলওয়ে পুলিশ সদস্য ছাড়াও সাদাপোশাকে অনেকেই দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও ট্রেনে ট্রেনে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নিরাপদে যাত্রীরা যেন ট্রেন ভ্রমণ করতে পারেন সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ তৎপর আছি।

এইচটি/ এস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়