‘শিশুদের উচ্ছ্বাস আমার খুব ভালো লাগে’

প্রকাশ | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:৩১ | আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৭:০৭

এ এইচ মুরাদ

নাইস নূর। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে সিনিয়র নিউজরুম এডিটর হিসেবে কর্মরত আছেন দেশের শীর্ষ একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে। এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় নাইস নূরের লেখা  ‘Blind Princess and The Fairy’ ও ‘অ বন্ধু ঔ’ নামের দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বই এবং অন্যান্য বিষয়ে নাইস নূর কথা বলেছেন আরটিভি অনলাইনের সঙ্গে।

‘Blind Princess and The Fairy’ বইটি সম্পর্কে কিছু বলুন

শিশু-কিশোরদের জন্য ইংরেজিতে লেখা রুপকথার বই এটি। বইটি প্রকাশ করেছে ‘ঝিঙেফুল’। বইটির প্রকাশক গিয়াস উদ্দীন খসরু। বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ৭৫ টাকা। Blind Princess আমার গল্পের একটি চরিত্র। আমার আগের একটি বই ‘A Tale Of Blind Princess’ সেটার সিক্যুয়েল নতুন বইটি, তবে গল্পটি আলাদা। আগের বইটি প্রকাশের পর বেশ সাড়া পেয়েছিলাম। সেকারণে নতুন এই বইটি লেখা। বইটিতে একটা ম্যাসেজ দিয়েছি সেটি হলো, ‘অপেক্ষার ফল সবসময় ভালো হয়। কখনও হতাশ হওয়া যাবে না কাজ করে যেতে হবে’। এর মধ্যে কবি আসাদ চৌধুরী, মুহম্মদ  জাফর ইকবাল স্যার বইটির প্রশংসা করেছেন। সাধারণ পাঠকদের মাঝেও ভালো সাড়া পেয়েছি।

ইংরেজিতে বইটি লেখার কারণ কি?

শুদ্ধ বাংলা ভাষা জানার পাশাপাশি আমাদের ভালো ইংরেজি শেখাটা জরুরি। কারণ ইংরেজি হলো আন্তর্জাতিক ভাষা। এটি সব ক্ষেত্রেই লাগে। শিশুদের জন্য ইংরেজিতে গল্পের বই লেখার অন্যতম একটি কারণ হলো গল্প পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ভাষাটা শেখাও হয়ে যাবে। এবারের বই মেলায় আমার বাংলায় একটি বই প্রকাশিত হচ্ছে নাম ‘অ বন্ধু ঔ’। স্বরবর্ণ নিয়ে লেখা বইটিও খুব মজার। শিশুরা পছন্দ করবে বলে আমার বিশ্বাস।       

মার্ক জাকারবার্গকে বইটি উৎসর্গ করার কারণ কী?

সামাজিক যোগাযোগ করার জন্য ফেসবুকের বিকল্প নেই। আমি ছোটবেলা থেকেই সৃজনশীল গল্প লেখার চেষ্টা করছি। আজ থেকে কয়েক বছর আগে যখন আমি ফেসবুক ব্যবহার করা শুরু করি তখন এই ওয়েবসাইট আমাকে লেখালেখির জগতের মানুষের সাথে সম্পৃক্ত হতে অনেক বেশি সহযোগিতা করেছে। বলতে পারেন, কিছুটা ভালো লাগা ও উচ্ছ্বসিত হয়েই আমি মার্ক জাকারবার্গ ও তার স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান এবং তাদের দুই কন্যা ম্যাক্সিমা চেন জুকারবার্গ ও অগাস্টকে বইটি উৎসর্গ করেছি।

আপনার অন্যান্য বই সম্পর্কে জানতে চাই?

আমার লেখা উল্লেখ্যযোগ্য বইগুলো হলো- ‘কার্টুনের দেশে মনিকা’, ‘সাদমানের ক্রিকেটার বন্ধু’, ‘জেবার প্রিয় বারবি ডল’, ‘শুন্ডু ভূতের পাঁচকন্যা’ ও ‘না ছোঁয়ার স্পর্শ’ ইত্যাদি। একুশে বইমেলা ছাড়াও সব বই পাওয়া যাচ্ছে অনলাইন বুক শপ রকমারি ডটকমে।

শিশুদের জন্য বই লেখার কারণ কী?

শিশুদের উচ্ছ্বাস আমার খুব ভালো লাগে। ওরা যখন আমার বই পড়ে কিংবা আমার বই নিয়ে খেলে এই বিষয়গুলো আমাকে ভীষণ আনন্দ দেয়। আর শিশুরাই তো আমাদের আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের জ্ঞানের ভিত্তিটা ভালো হতে পারে বই পড়ার মাধ্যমেই। 

আপনি তো নাটক লেখার সঙ্গে জড়িত?

হ্যাঁ, আমার লেখা প্রথম নাটক ‘চাঁদের পালকী’ বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচার হয়। এরপর মেঘ বৃষ্টি অতঃপরসহ বেশ কিছু নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হয়েছে। কিছুদিন আগে আমার লেখা ‘চুপ কথা’ নামে আরও একটি নাটকের শুটিং হয়েছে। সামনে বেশ কিছু কাজের ব্যাপারে কথা চলছে।

আপনি সাংবাদিক হিসেবেও বেশ পরিচিতএই পেশাটি কেমন লাগে?

এটা আমার ভালো লাগার জায়গা। অনেক গুণী মানুষের সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছি শুধু সাংবাদিকতা করি বলেই। তাদের কাছে থেকে ভালো জিনিসগুলো শেখার চেষ্টা করি। পেশাটি আমাকে আলোকিত করেছে বলে আমি মনে করি।

আরও পড়ুন: 

এম/পিআর