• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

কোথাও সুবিধা করতে না পেরে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান

আরটিভি অনলাইন
|  ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৩:২৪
মাত্র নয় মাস যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন, বিশ্বে বিরল। যুদ্ধের পাশাপাশি জোরালো কূটনীতিতে অল্প সময়ে আসে বাংলার বিজয়। পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-চীন থাকলেও বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয় ভারত, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও পোল্যান্ড। যুদ্ধ ও কূটনীতিসহ কোথাও সুবিধা করতে না পেরে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। 

অন্যদিকে ১৫ ডিসেম্বর সারাদেশে বিজয়ের আগাম বার্তা ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এই রাতে পশ্চিম পাকিস্তানের সদর দপ্তর থেকেও ঢাকায় আত্মসমর্পণের নির্দেশ পৌঁছে যায় পাকিস্তান বাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজির কাছে। এদিন যুদ্ধে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে যায় মার্কিন সপ্তম  নৌবহর।

বঙ্গোপসাগরে থাকা মার্কিন ৭ম নৌবহরকে মোকাবেলা করতে সোভিয়েত রণতরীর ২০টি জাহাজ ভারত মহাসাগরে অবস্থান নেয়। মুক্তিপাগল মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস দৃঢ়তায় ভীত হয়ে নিজেদের গুটিয়ে ফেলে মার্কিন ৭ম নৌবহর।

জেনারেল নিয়াজির অনুরোধে ১৫ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে পরদিন সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত, ভারত বিমান আক্রমণ স্থগিত রাখে। এর আগেই মুক্তিযোদ্ধারা, ঢাকার চারপাশে অবস্থান নিয়ে, ঘিরে ফেলে। আত্মসমর্পণ না হলে, ঢাকা জয়ের ছক নিয়ে প্রস্তুত থাকে, মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী। 

পরাজয়ের পদধ্বনি শুনতে পেয়ে দিশেহারা নিয়াজি। পালাবার পথ না পেয়ে আবেদন জানান যুদ্ধবিরতির। তবে তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয় আত্মসমর্পণই একমাত্র পথ।   

প্রাণ বাঁচাতে পাকিস্তানি সেনা, দালালসহ পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রীরা আশ্রয় নেন ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে।  

অন্যদিকে বাঙালি জাতির আর বুঝতে বাকি থাকে না যেকোনো মুহূর্তেই বেজে উঠবে বিজয়ের সুর। চরম পরিণতির কথা ভেবে বিভিন্ন শহর ছেড়ে পালাতে শুরু করে পাকিস্তানি বাহিনী।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়