close
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ | ০৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

লক্ষীরাণীরা কেন রাখাইন ছাড়ছেন?

মুহাম্মদ শাহীনুজ্জামান, উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প থেকে ফিরে
|  ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২০:৫৬ | আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৯:৪২
মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযানে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। আশ্রয়প্রার্থীরা সিংহভাগ মুসলিম হলেও এদের মধ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও আছেন। এরই মধ্যে উখিয়া শরণার্থী ক্যাম্পে শতাধিক হিন্দু ধর্মাবলম্বী আশ্রয় নিয়েছেন। তারাও সেখানকার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বাধ্য হয়েছেন নিজ ভিটেবাড়ি ছাড়তে।  

হিন্দু রোহিঙ্গারা বলছেন, নৃতাত্ত্বিক পরিচয় ‘রোহিঙ্গা’ হবার কারণেই তারা রাখাইন ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। মিয়ানমার সরকার মনে করে, তারা অভিবাসী বাঙালি। সেখানে হিন্দু মুশলিম মুখ্য না। জীবন বাঁচাতে তাই হিন্দুধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গাদেরও দেশ ছাড়তে হয়েছে। তবে সেখানকার বৌদ্ধধর্মাবলম্বী রাখাইনরা বহাল তবিয়তেই আছেন।
  
জাতিসংঘ এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সন্ত্রাস এখন জাতিগত নির্মূল অভিযানের রূপ নিয়েছে। যা ভবিষ্যতে পাঠ্য বইয়ে উদাহরণ হয়ে থাকবে। রোহিঙ্গারা এখন হিন্দু না মুসলিম সেটা বড় পরিচয় নয়। তাদের বড় পরিচয় তারা ‘রোহিঙ্গা’। আর এই ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয়টাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ।

কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প থেকে কিছুটা দূরে রাস্তার পাশে কথা হয় ক'জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারী শরণার্থীর সঙ্গে। তাদের একজন লক্ষীরাণী (২৫)। রোহিঙ্গা কিনা জিজ্ঞেস করতেই জানালেন, ‘আইয়ো, আঁরা রোইঙ্গা (হ্যা, আমরা রোহিঙ্গা)।' বললেন, ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয়টা দিতেই তারা স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। জানালেন, তারা মংডু শহরের উত্তরপাড়া থেকে এসেছেন।'

লক্ষীরাণী গৃহিনী। ঘরেই বাইরের খবর খুব একটা রাখেন না। আলাপেই বোঝা গেল, কথাবার্তা বলতেও খুব একটা অভ্যস্ত না। বললেন, সেনা নির্যাতনে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে জান বাঁচাতে তারা পালিয়ে এসেছেন। মংডু থেকে পাহাড়ের ভেতর দিয়ে ৩ দিনের পথ হেঁটেছেন। তারপর নৌকায় এপারে। 

তাঁর ভাষায়, উত্তরপাড়া-মাঝেরপাড়া থেকে ২০ থেকে ৫০ ঘর রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। সেনা সদস্যরা এসে সরে যেতে বলেছিল, নইলে ঘরে আগুন দিয়ে সব পুড়িয়ে দেবে বলেও হুমকি দিয়েছিল। এজন্য জীবন বাঁচাতে তারা চলে এসেছেন বাংলাদেশে। 

‘আসার সময় পাহাড়ের মধ্যে একদিন লুকিয়ে ছিলাম। তারপর দুই-তিন দিন লেগেছে এখানে আসতে। আমাদের পরিবারের ১২ জন এসেছি। সেনারা মেরে ফেলবে এই ভয়ে এসেছি। ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছি ১২ দিন আগে।’ বললেন লক্ষীরাণী।

তিনি জানান, বাঙালিদের সঙ্গে চেহারা মিলে যাওয়াতেই যত সমস্যা। এখন তারা শরণার্থী, তবে জানেন না, পরে কী করবেন। অনিশ্চয়তার পথে পা বাড়িয়েছেন বাধ্য হয়েই। তারা জানেন না, নিজ দেশে ফিরতে পারবেন কিনা। জানেন না, মিয়ানমার সরকার তাদের স্বীকৃতি দেবে কিনা! 

এসজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়