• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

সু চি মিথ্যাচার করেছেন: অ্যামনেস্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২০:৫১ | আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২২:৫০
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি মিথ্যাচার করেছেন বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মঙ্গলবার সকালে নাইপিদো-তে জাতির উদ্দেশে সু চি’র দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটি মিয়ানমারের বর্তমান নীতিকে ‘বালুতে মাথা গুঁজে রাখা’হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

অ্যামনেস্টির দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগর বিষয়ক প্রধান জেমস গোমেজ অভিযোগ করে বলেন, রাখাইন নিয়ে আগের অবস্থানেই রয়েছে মিয়ানমার।

সু চি বলেন, চলমান সংকটে বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্বেগে মিয়ানমার বিচলিত নয়।

তিনি বলেন, পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে সরকার শান্তি বজায় রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সু চি বলেন, রাখাইন থেকে মুসলিমরা কেন পালিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছে তা খুঁজে বের করতে চাই। আমরা সব মানুষের দুর্ভোগ গভীরভাবে অনুভব করি। রাখাইনে শান্তি, স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে কাজ করছি। বাস্তুচ্যুতদের সহায়তাও দেয়া হচ্ছে।

এ নিয়ে জেমস গোমেজ বলেন, সু চি’র বক্তব্যেই প্রকাশ পেয়েছে ইস্যুটি নিয়ে তারা মিথ্যাচার করছেন। যদি রাখাইন নিয়ে তারা কিছু নাই লুকাতেন তাহলে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের কেন সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা রোহিঙ্গাদের উপর নির্মম দমন-পীড়নের যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকলেও তাতে গুরুত্ব দিচ্ছেন না শান্তিতে নোবেল জয়ী সু চি। তিনি প্রতিবাদ জানালেই বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখা হতো।

এদিকে চলতি সপ্তাহেই রোহিঙ্গাদের কোনো শেকড় নেই উল্লেখ করে জনগণকে এ ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান দেশটির সেনাপ্রধান।

জেনারেল মিন অং হায়াং দাবি করেন, যারা গেলো ২৫ আগস্ট পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়েছিল তাদের নির্মূল অভিযানের লক্ষ্যে রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের বের করে দেয়া হয়েছে।

পরে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপসহ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন বন্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দেয়া উচিত বলে আহ্বান জানায় মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

রাখাইন প্রদেশে কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি ও তল্লাশি চৌকিতে গেলো মাসে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। এর জেরে সেখানে অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। নিরস্ত্র নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। ফলে গেলো কয়েক সপ্তাহে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

ওয়াই/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়