close
ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট ২০১৭ | ০৮ ভাদ্র ১৪২৪

পূর্বাচল প্রকল্পে আইন মানা হয়নি (ভিডিও)

সোহেল রানা
|  ২৪ জুলাই ২০১৭, ১৮:২১ | আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৭, ১৮:২৫
পূর্বাচল নতুন শহরের প্লট বানাতে ভাওয়াল গড়ের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য যেমন নষ্ট করা হচ্ছে, তেমনি কেটে ফেলা হচ্ছে লালমাটির উঁচু-নিচু ভূমি। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মানা হয়নি আইন।

লোকচক্ষুর অন্তরালে গহিন বনে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে চলছে শালবন দখল। অক্সিজেন সরবরাহকারী গাছগুলোর বেহাল দশা দেখে সহজেই অনুমান করা যায়, কতোটা নির্দয়ভাবে পরিবেশ ধ্বংসে মেতেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

১৯৫৯ সালের ‘ব্যক্তিগত বন আইন’ অনুযায়ী, বড়কাউ ও পারাবর্থা এলাকার ৬৭৭ একর ভূখণ্ড ব্যক্তিগত বন হিসেবে চিহ্নিত।

এছাড়া ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ২০১০’ অনুযায়ী, আবাসন প্রকল্প লাল তালিকাভুক্ত কর্মকাণ্ড হওয়ায় পরিবেশ ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। অনুসন্ধান বলছে, পূর্বাচল প্রকল্পের ক্ষেত্রে এর কোনটাই মানা হয়নি।

‘বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি-বেলা’র তথ্যমতে, পূর্বাচল প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা এক হাজার ৩০০ একর জমির মধ্যে দু’ হাজার প্লট তৈরি হবে। এজন্য কাটা পড়বে প্রায় ১১ লাখ গাছ।

বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, রাজউক ও বনবিভাগ কোনো আইনকানুনের ধার ধারে না। রাজউক নিজে আইনভঙ্গ করে নির্লজ্জের মতো। এছাড়া অন্যান্য ভূমিদস্যুদের আইনভঙ্গ কর্মকাণ্ডকে বৈধ করতে এ পর্যন্ত কাজ করে আসছে রাজউক ।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, যদি পূর্বাচলের মূল পরিকল্পনার দিকে তাকাই, তবে দেখা যায় এটি একটি পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা। নদী, খাল ও বন নিয়ে কীভাবে পরিকল্পনা করতে হয়, তার একটা উদাহরণ ছিল পূর্বাচলের মূল পরিকল্পনায়।

তিনি বলেন, নতুন নতুন প্লট সৃষ্টির তাগিদে ও সীমাহীন দৌরাত্ম্যে এ প্রকল্প এখন পরিবেশ ধ্বংসকারী প্রকল্পের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

ক্রমান্বয়ে ও সিস্টেমেটিক্যালি পরিবেশ ধ্বংস করার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে তাতে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা দরকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন-পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, রাজউক যে কাজগুলো করছে সেগুলো প্রকৃতির প্রতি নির্মম অত্যাচার। অবিলম্বে এ জিনিস বন্ধ করা উচিত।

 

কে/এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়