close
ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ | ০৩ ভাদ্র ১৪২৪

দ্বিগুণ হচ্ছে ঈদের ছুটি!

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৯ জুন ২০১৭, ০৮:৪২
ঐচ্ছিক ছুটি কমিয়ে দুই ঈদের ছুটি দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। অর্থাৎ ৩ দিনে পরিবর্তে এই ছুটি ৬ দিন করা হতে পারে।এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলেই এটি কার্যকর হতে পারে। তবে বিষয়টি মন্ত্রিসভার আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়নি বলে জানা গেছে।

আর প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে এবার ঈদের ছুটি শুরু হবে ২৪ জুন শনিবার থেকে। শেষ হবে ২৯ জুন বৃহস্পতিবার। ছুটির পর দুদিন সাপ্তাহিক বন্ধ। সব মিলিয়ে ছুটি মিলবে ৯ দিন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ঈদে ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের কথা রয়েছে। ছুটি তিনদিন বাড়ানো হলে তা আবার সরকারি কর্মচারীদের ঐচ্ছিক ছুটি থেকে কেটে নেয়া হবে। অর্থাৎ বছরের নির্ধারিত ছুটি ঠিকই থাকবে। শুধু ঐচ্ছিক ছুটির সঙ্গে ঈদের ছুটি সমন্বয় করা হবে।

প্রস্তাব অনুসারে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাৎসরিক ২০ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি থেকে ৬ দিন কেটে নিয়ে দুই ঈদের ছুটির সঙ্গে ৩ দিন করে যুক্ত করে ঈদের ছুটি বাড়ানো হবে। এ ছুটির সঙ্গে কাউকে ঐচ্ছিক ছুটি দেয়া হবে না।

এছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বীরা ঈদের ছুটি ভোগ করে বিধায় তাদের প্রধান দুইটি ধর্মীয় উৎসবে সরকারি ছুটির সঙ্গে দু’দিন করে চার দিন ঐচ্ছিক ছুটি দেয়া হবে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্য পাঠানো সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ঈদের ছুটির সময় যানবাহনের ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ, দুর্ঘটনা বৃদ্ধিসহ দীর্ঘ ট্র্যাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়। ঈদের ছুটি শেষে অফিস খোলার পরবর্তী ২-১ দিন কর্মচারীদের উপস্থিতি কম থাকে।

এরপরও অফিসের ইউটিলিটি সার্ভিস, লিফট, গাড়ি চালু রাখতে হয়। ফলে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও প্রয়োজনীয় জিনিসের সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়। এজন্যই এ প্রস্তাব।

অন্য ধর্মাবলম্বীরা ঈদের ছুটি ভোগ করে বিধায় তাদের প্রধান দু’টি ধর্মীয় উৎসবের সরকারি ছুটির সঙ্গে দু’দিন করে চারদিন ঐচ্ছিক ছুটি দেয়া হবে। ফলে বিভিন্ন পর্বের জন্য বিদ্যমান ছুটির ভারসাম্য বজায় থাকবে।

এতে যানবাহনের ওপর চাপ, যানজট ও দুর্ঘটনা কমবে। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে আসার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। ছুটি যেন আরো দীর্ঘায়িত না হয়, সেজন্য দুই ঈদের সঙ্গে ঐচ্ছিক ছুটি বাতিল করারও প্রস্তাব করা হয় সারসংক্ষেপে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদে ছুটি বাড়ানোর দাবি সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের। ২০১০ সালে ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি তিন দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিন করার প্রস্তাব দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যদিও পরে সরকার এটি নাকচ করে দেয়। কিন্তু এবার এই দাবি বিবেচনায় নিয়ে ও ঈদে যাতে ঘরমুখো মানুষ যেন নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে এজন্য ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরবে ঈদুল ফিতরের ছুটি থাকে সাত দিন। ঈদুল আজহার ছুটি থাকে ১০ দিন। চীনে বসন্ত উৎসবে সরকারি ছুটি থাকে টানা সাত দিন।

উল্লেখ্য, এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাহী আদেশে গত দুই ঈদে একদিন করে ছুটি বাড়িয়েছিলেন। এ জন্য সরকারি চাকরিজীবীদের অতিরিক্ত একদিন অফিস করতে হয়েছে।

সি/

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়