close
ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০২ পৌষ ১৪২৪

‘প্রবৃদ্ধি বাড়লেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান হচ্ছে না’

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৭ জুন ২০১৭, ২২:০৩ | আপডেট : ১৮ জুন ২০১৭, ১০:০৪
বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে না। তাই প্রবৃদ্ধি বাড়লেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান হচ্ছে না। বললেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি’র বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

শনিবার সকালে রাজধানীর লেকশোর হোটেলে সিপিডি আয়োজিত ‘সিপিডি বাজেট সংলাপ ২০১৭’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ব্যক্তি খাতের যে অংশগ্রহণ থাকার কথা ছিল তা থাকছে না। বাজেট বাস্তবায়ন না হবার জন্য বড় মন্ত্রণালয়গুলোর সক্ষমতা না থাকাও একটি বড় কারণ।

প্রবৃদ্ধিকে তিনি দু’ইঞ্জিনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সরকারি বিনিয়োগের ইঞ্জিনটা চললেও বেসরকারি ইঞ্জিনটা চলছে না। সরকারি বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বাড়ছে না।

অনুষ্ঠানে ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান। তিনি বলেন, বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেয়া হয় না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এমনকি মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের মতামতও উপেক্ষিত হয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিছু নির্দেশনা দেন। আর অর্থমন্ত্রী সেভাবে একটা বাজেট তৈরি করেন। জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণও থাকে না। তাই বাজেটের বাস্তবায়নও হয় না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা বলেন, নিয়মানুযায়ী আবগারি শুল্ক থাকলে ভ্যাট থাকবে না। বাংলাদেশে দুটোই আছে। সরকার আবগারি শুল্ক উঠিয়ে দিয়ে ব্যাংক সেবার ওপর ভ্যাট বসাতে পারে।

অনুষ্ঠানে সিপিডি চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বাজেট সম্পর্কে বলেন, বাজেট কত বড়, বাস্তবায়ন কতটা হলো—এসব সংখ্যাতাত্ত্বিক অনুশীলন ছাড়া আর কিছুই নয়। বাজেট থেকে মানুষ কতটা সুবিধা পেল, সেটাই বড় কথা।

তিনি বলেন, বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে, তার সুবিধা সবার কাছে পৌঁছছে কিনা, তা দেখতে হবে।

তাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আসছে পাঁচ বছরে ১ কোটি মানুষ শ্রমবাজারে আসবে। তখন আমরা তাদের কর্মসংস্থান করবো।

তিনি বলেন, বাজেট প্রস্তাবগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা হচ্ছে। বাজেটে এমন কিছু থাকবে না যাতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুঃশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

পরিকল্পনামন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার মানবসম্পদে বিনিয়োগ না করে মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের সুবিধা হলো ৮ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু ২৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হতে পারে।

এটি শুধু সরকারি অর্থের অপচয় নয়, দুর্নীতিকেও উৎসাহিত করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংলাপে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, নতুন মূল্য সংযোজন কর-মূসক বা ভ্যাট আইনের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। সরবরাহ পর্যায়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেট-সেবা, রেস্তোরাঁ, ব্র্যান্ডের পোশাক কিনতে খরচ বাড়তে পারে।

আরো বলা হয়, আমদানি পর্যায়ে জ্বালানি তেল, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলের আমদানি ব্যয় বাড়বে; যা ভোক্তার ওপর পড়বে। আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়ে সাবান, টুথপেস্ট, বোতলজাত পানি, হলুদ, মরিচ, আসবাব, লোহাজাতীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে।

এ সময় আরো ছিলেন সিপিডি বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, বিলুপ্ত বেসরকারিকরণ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, এনবিআর সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ।

কে/ডিএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়