• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

রাজনীতির মহাপুরুষ প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক
|  ১৯ মার্চ ২০১৭, ২৩:৪৭ | আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৭, ০৯:২৯
মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি। ১৯২৯ সালের ৯ মার্চ কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ভৈরবপুরে জন্ম গ্রহণ করেন রাজনীতির এ মহাপুরুষ। বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ২০ মার্চ ২০১৩ সালে মৃত্যু বরণ করেন।

জিল্লুর রহমানের পিতা মেহের আলী মিঞা ছিলেন একাধারে আইনজীবী, ময়মনসিংহ লোকাল বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জেলা বোর্ডের সদস্য।

জিল্লুর রহমান ১৯৪৫ সালে ভৈরব কে.বি হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৭ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে আই.এ এবং ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে বি.এ (অনার্স) এবং ১৯৫৪ সালে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল.এল.বি ডিগ্রি লাভ করেন।

জিল্লুর রহমান ১৯৪৭ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অধ্যয়নের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সান্নিধ্যে আসেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ১৯৫২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সমাবেশে তিনি সভাপতিত্ব করেন। ২০ ফেব্রুয়ারি ফজলুল হক হল ও ঢাকা হলের মধ্যবর্তী পুকুরপাড়ে যে ১১ জন ছাত্রনেতার নেতৃত্বে ২১ ফেব্রুয়ারিতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তিনি ছিলেন অন্যতম।

১৯৫৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফজলুল হক হল ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন প্রয়াত এ রাষ্ট্রপতি। ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন এবং পরে ছাত্রদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেন।

জিল্লুর রহমান ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে বৃহত্তর ময়মনিসংহ জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৬ সালে নির্বাচিত হন কিশোরগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি।। ১৯৬২ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি গণ-আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

ষাটের দশকে গুনী এ রাজনীতিবিদ ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক, ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সরকার তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল করে ২০ বছর কারাদণ্ড ও সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে।

১৯৭২ সালে জিল্লুর রহমান প্রথম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ১৯৭৪, ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালে ফের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ৭২ সালে তিনি গণপরিষদ সদস্য হিসেবে সংবিধান প্রণয়নে অংশ নেন। ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) পলিটব্যুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যার পর জিল্লুর রহমান চার বছর কারাভোগ করেন। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়ামের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮৬, ৯৬ ও ২০০১ সালে সালে সাংসদ নির্বাচিত হন। ৮৬ সালে সাংসদ থাকার সময় কারাবরণ করেন।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি আইন জারির পর ১৬ জুলাই রাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হন। সেই সময় তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জিল্লুর রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

 

এইচটি/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়