• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

ইতি টানলো প্রাণের বইমেলা

মিথুন চৌধুরী
|  ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২১:৩৪ | আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৭, ১৫:২২
তুমি অমন ক’রে গো বারে বারে জল-ছল-ছল চোখে চেয়ো না,

জল-ছল-ছল চোখে চেয়ো না।

ঐ কাতর কন্ঠে থেকে থেকে শুধু বিদায়ের গান গেয়ো না,

শুধু বিদায়ের গান গেয়ো না।।

দুখু মিঞার এ কবিতার মতো করে যেন ছল ছল চোখে বিদায় নিলো প্রাণের বইমেলা। ফের অপেক্ষার প্রহর গুনার সময় হয়ে গেলো প্রাণের মেলার। বুধবার থেকে আর বট তলায় নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হবে না।  সোহারাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমিতে পাঠক-দর্শনার্থীদের কোলাহল শোনা যাবে না। নতুন বইয়ের ভাজ খোলা আর ক্ষুদে পাঠকদের বই কেনার বায়না ধরার সময় যেন ফুড়িয়ে গেলো মঙ্গলবার রাতে।

তাই মেলার শেষ দিনে পাঠক-দর্শনার্থীরা মেলার পদধুলি নিতে ভুল করেনি। পরিবহন ধর্মঘট ও শত ব্যস্ততাকে ডিঙ্গিয়ে মেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই শেষ অবদি বই মেলার কোনায় কোনায় পাঠকের সমাগম ছিল। 

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, অনেকে নিজের পছন্দের বাকি থাকা বইগুলো কিনতে বইয়ের স্টলগুলোতে ঘুরপাক মারছে। কেউ কেউ পছন্দের বইয়ের শেষ হয়ে যাওয়া চালানের বইটি কিনতে মেলায় ভিড় করে। যারা বই মেলায় নিত্যদিন আশা যাওয়া করতো তারাও শেষ দিনে বই মেলায় ঘুরতে এসেছে। কেউ কেউ এসেছে পছন্দের কবি-লেখকের সঙ্গে দেখা করতে। অনেকে এসেছেন পরিবার-পরিজন বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরতে।

যেহেতু গেলো শুক্রবার ও শনিবার শিশুপ্রহর শেষ হয়ে গেছে তবুও বাবা-মায়ের সাথে মেলায় ঘুরতে এসেছে ক্ষুদে পাঠকরা। মেলার শেষ দিনেও তরুনীরা মাথায় ফুল সাজিয়ে বাহারী রঙের পোশাক পড়ে মেলায় ঘুরেছে। সকলের মুখে যেন মলিন হাসি। অনেকের চোখে ছল ছল ভাব।

নারায়ণগঞ্জ থেকে মেলায় এসেছে সুজন বিশ্বাস। তিনি বলেন,  প্রতিবার বই মেলায় আসি। এবারও ব্যাতিক্রম ঘটেনি। বই মেলার শুরুর কদিন বেশ কয়েকটি বই কিনে নিয়েছি। কিছু বই বাকি ছিলো। মেলার যেহেতু আজ শেষ দিন তাই অবরোধের কারণে সকালে রেলে করে কমলাপুর রেলস্টেশনে আসি। পরে কমলাপুর থেকে কোন যানবাহন না পেয়ে হেঁটে মেলায় আসি। বিকাল থেকে মেলায় আছি। মেলা থেকে যেতে মন চাইছে না। তাই ঘুরে ফিরে বিভিন্ন স্টল দেখছি। বইয়ের পাতা উল্টে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকটি বই পড়েছি। মেলা শেষ হলেই বাড়ি ফিরবো এর আগে নয়।

মাথায় ফুল সাজিয়ে লাল রংয়ের শাড়ি পড়ে মেলায় এসেছে সুস্মিতা চৌধুরী। হাসতে হাসতে সে জানায়, বই মেলা আমার প্রাণ। আমার প্রাণের তৃষ্ণা মেটায় বই। সারা বছরের জমানো টাকা দিয়ে বেশ কয়েকটি লেখকের বই কিনেছি।মেলায় বর অরণ্য চৌধুরী সাথে ঘুরতে এসেছি শেষ দিনের মতো ঘুরতে। যদি চোখে পড়ে তাহলে কিছু বই কিনে সংগ্রহে রাখবো।

মেলায় ঘুরতে এসেছে চায়না থেকে আসা পর্যটক লিও লে মিচি। তিনি জানান ব্যবসায়ের কাজে এসেছেন বাংলাদেশে। বই পড়ার শখ তার শৈশব থেকে। ঢাকায় বই মেলা হচ্ছে জেনে তিনি মেলায় ঘুরতে এসেছেন। বেশ কিছু বইও কিনেছেন তিনি।

সমাপনী অনুষ্ঠান

সন্ধ্যা সাড়ে ছ'টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২০১৭-এর সমাপনী অনুষ্ঠান। শুভেচ্ছা ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। গ্রন্থমেলার প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-এর সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. ইব্রাহীম হোসেন খান। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। 

পুরস্কার
সমাপনী অনুষ্ঠানে কবি শামীম আজাদ ও লেখক অনুবাদক নাজমুন নেসা পিয়ারিকে বাংলা একাডেমি পরিচালিত সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ পুরস্কার ২০১৬ প্রদান করা হং। এছাড়া অনুষ্ঠানে ২০১৬ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০১৭, ২০১৬ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য তিনটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৭, ২০১৬ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০১৭ এবং ২০১৭ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে থেকে নান্দনিক স্টল ও প্যাভেলিয়ন সজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তিনটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৭ প্রদান হয়। 

এমসি/এমকে 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়