• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

শেষবেলায় বিদায়ের সুর

সিয়াম সারোয়ার জামিল
|  ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২০:২৫ | আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২০:৩০
ফেব্রুয়ারি জুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চত্ত্বরে চলে অমর একুশে বইমেলা। মেলার ২৭তম দিনে দেখা গেলো বিদায়ের সুর। যারা এসেছেন তাদের প্রায় সবার হাতেই দেখা গেলো বই। স্টলে স্টলে পাঠকদের দারুণ ভিড়। অনেকেই দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে বই সংগ্রহ করেছেন। লেখকদেরও ব্যস্ততম সময় কাটাতে দেখা গেলো। প্রকাশকরাও শেষবারের মত দিচ্ছেন দৌড়-ঝাপ। এমন চিত্র চোখে পড়েছে প্রাঙ্গণজুড়ে।

প্রকাশকরা বলছেন, সবাই বই কিনে যাচ্ছেন। শেষ বেলায় কেনাকাটা জমজমাট। মাঝে মাঝেই ক্রেতাদের সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। মেলায় প্রবেশের জন্য অপেক্ষারতদের লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। মানুষ আর মানুষ। প্রায় প্রতিটি স্টলের সামনে গায়ে গায়ে লাগা ভিড়। 

শ্রাবণ প্রকাশনের সত্ত্বাধিকারী রবিন আহসান বলেন, শেষ দিনে যেমন হওয়ার কথা। তেমনই বিক্রি হয়েছে। তবে বিদায়ের সুর ছিল। পাঠকেরা যারাই এসেছেন, বই কিনে নিয়ে গেছেন।

জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনীর অনিরুদ্ধ দাস অঞ্জন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বেঁচাবিক্রি বেশ ভাল। মেলা সবমিলিয়ে দারুণ হয়েছে। তবে আরো কয়েকদিন মেলার সময় বাড়ালে ভাল হতো।  


২৭তম দিনে নতুন বই ১৫৫টি
সোমবার ছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৭তম দিন। এদিন নতুন বই এসেছে ১৫৫টি । এর মধ্যে ৪০টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। 

বিকেল চারটায় মূলমঞ্চে 'বাংলাদেশের প্রকাশনা : গ্রন্থ পরিকল্পনা ও সম্পাদনা' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তারিক সুজাত। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মফিদুল হক, বদিউদ্দিন নাজির এবং খান মাহবুব। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমেদ।
প্রাবন্ধিক বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে প্রকাশনার মান যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি প্রকাশনার ক্ষেত্রে পেশাদারি দৃষ্টিভঙ্গিও তৈরি হয়েছে। ডিজিটাল ফটোগ্রাফি, ডিজিটাল ইমেজ-এসব বিষয়গুলো হাতের নাগালে চলে আসায় প্রকাশনা সহজ হলেও এর জটিল দিকও উন্মোচিত হয়েছে। তবে ই-বুক্স বা বৈদ্যুতিক পুস্তক, অডিও বই কিংবা ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তার, ডিজিটাল উপাদানের সহজলভ্যতা প্রচলিত প্রকাশনার ধারণাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করালেও মুদ্রিত বইয়ের আবেদন শ্বাশত চিরকালীন। প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে এবং পাঠকের পরিবর্তিত পাঠাভ্যাসের সাথে সঙ্গতি রেখে প্রকাশনার মানোন্নয়নের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি, যোগ্য সম্পাদক তৈরি, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ, প্রশিক্ষণ যেমন প্রয়োজন রয়েছে তেমনি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। 

সভাপতির বক্তব্যে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে ভালোমানের বই প্রকাশের জন্য প্রকাশনার জগতে দক্ষ জনশক্তি ও অধিক বিনিয়োগ দুটিই প্রয়োজন। সেই সাথে জাতীয় গ্রন্থনীতি ও গ্রন্থাগারনীতি বাস্তবায়ন করাও অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে। 
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল প্রবীর দত্ত’র নির্দেশনায় এবং গীতাঞ্জলি ললিতকলা একাডেমির পরিবেশনায় নাটক মুনীর চৌধুরী।

মেলায় হুমায়ুন আজাদকে স্মরণ 
বহুমাত্রিক লেখক হুমায়ুন আজাদের উপর মৌলবাদী চক্রের সন্তাসী হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে একুশে গ্রন্থমেলায়  বিকেলে তাঁকে স্মরণ করা হয়। লেখক-পাঠক-প্রকাশকদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত  এ সভায় মূল বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম, সুভাষ সিংহ রায়, মারুফ রসূল, শাহাদাৎ হোসেন নিপুসহ আরো অনেকে। 

সভাপতিত্ব করেন আগামী প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী ওসমান গনি। সভা সঞ্চালনা করেন কবি আসলাম সানী। বক্তারা বলেন, হুমায়ুন আজাদের হত্যাচেষ্টার বিচার অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং তাঁর আদর্শে মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সমাজ-রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করতে হবে। 

গ্রন্থমেলার বর্ধিত সময়  
মঙ্গলবার বাংলা একাডেমি আয়োজিত মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলার শেষ দিন। এদিন অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুরু হবে বিকেল ৩টার পরিবর্তে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত।  

সমাপনী অনুষ্ঠান
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ'টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২০১৭-এর সমাপনী অনুষ্ঠান। শুভেচ্ছা ভাষণ প্রদান করবেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। গ্রন্থমেলার প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-এর সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ। প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ ইব্রাহীম হোসেন খান। সভাপতিত্ব করবেন ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। 

পুরস্কার
সমাপনী অনুষ্ঠানে কবি শামীম আজাদ ও লেখক অনুবাদক নাজমুন নেসা পিয়ারিকে বাংলা একাডেমি পরিচালিত সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ পুরস্কার ২০১৬ প্রদান করা হবে। এছাড়া অনুষ্ঠানে ২০১৬ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০১৭, ২০১৬ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য তিনটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৭, ২০১৬ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য রোকনুুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০১৭ এবং ২০১৭ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে থেকে নান্দনিক স্টল ও প্যাভেলিয়ন সজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তিনটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৭ প্রদান হবে। 

এসজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়